সময়ের মুখ ও মুখোশ : সোহাগ সিদ্দিকী

কবি
(গুরুকবি মুহম্মদ নূরুল হুদা শ্রদ্ধাস্পদ)
কবি হেঁটে আসে একা প্রকৃতির হৃদয় বিন্যাসে
কবি হেঁটে যায় একা অসীমের সুনীল সন্যাসে
সে শূণ্যতা খুঁজে নেয় আলোক আধারে
সে পূর্ণতা ভরে দেয় আঁধার চাদরে
এই চরাচরে তার শব্দঘর বোধের আবাদ
এই অরণ্যের কাছে জমা তার সকল বিষাদ
এখানে পাহাড়ে যত সাধুসন্ত যত ধ্যানী ঋষি
এখানের সমতলে যত সুফি যত পূণ্যকৃষি
সহযাত্রী সবে তার অহল্যা নিশানা
সহমর্মী যত তার সবুজ ঠিকানা
এক কবি লক্ষজন বিরাজ বিরানে
এক কবি জন্মজয় প্রকৃতি পিরানে
বোধি বৃক্ষতলে সবে সর্বযজ্ঞে আজ কবিধ্যান
একজন্মে লক্ষজন্ম কবি আর কবিতার ঘ্রাণ
 
 
 
সময়ের মুখ ও মুখোশ
 এই মেঘ লুকোচুরি ভরা পূর্ণিমায়
মুখগুলো সময়ের মুখোশ আড়ালে
মাঝে মাঝে উঁকি দেয় দূষিত স্বভাবে
শব্দের নিঃশ্বাসে জাগে গলিত অতিত
বাহারি রঙের আড়ে বৃন্দাবন লীলা
অমাবস্যা অপেক্ষায় বোধের বধির
শুক্লপক্ষ অবসানে জাবর প্রতীক্ষা
ভাগাড়ের খোঁজে ওরা আকাশ চাতক
সূর্যের সালোক আর চাঁদের মায়ায়
বেকুবের বাড়া ভাতে ছাইয়ের স্তুপ
মরাকাটালের কালি ওদের মুখোসে
ওদের স্বর্গের আশে পুরাণ উধাও
ইতিহাস পোড়া ধূপে স্বার্থের আহ্নিক
প্রদীপের যাত্রাভঙ্গে বাসনার নাক
মুখোস পুতুলনাচ দেখে পোড়া চোখে
দেখেনা পিঠের পোড়া লাল জন্মদাগ।
 
 
পোয়াতি আঁধারে তুমি
 একদিন ক্লান্ত হয়ে তুমিও গুটাবে
নির্বাসন দেবে লোভ মুষ্ঠিবদ্ধ মুক্তির মিছিল
একদিন দেখে দেখে তুমিও বুঝবে
দানের সুতোয় বোনা অপরূপ ভিখারী বসন
অহংকার অলঙ্কার গলে গলে কান্নার পারদ
একদিন তোমার ও ইচ্ছে হবে বিসর্জন নিতে
নিজের প্রতিমা নিয়ে ডুবে যাবে দশমীর সুখে
বুঝে যাবে কত রঙ প্রণয়ের রঙধনু জুড়ে
একদিন ঝাড়বাতি আলো দাহে ঘর ছেড়ে যাবে
অবাক অরণ্য মাঝে জোসনার সুখে ভিজে ভিজে
খুঁজবে আমার মুখ সব নীল গন্ধ চিনে চিনে
আতুর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছুটে যাবে পোয়াতি আঁধারে
আর আমি যে তখন পূর্ণিমার বুক চিড়ে চিড়ে
ডানামেলে উড়ে যাবো অতিদূর আনন্দ নক্ষত্রে।
জীবন জীবাশ্মে শব্দ
আমিও জীবন দেখি—
দেখি জীবনের গায়ে ঝরে আছে জীবন পালক
দিনের গভীরে দেখি জীবনের নীল অন্ধকার
রাতের আঁধারে দেখি জীবনের সবুজ বাহার
দেখেছি জীবন খেয়ে বেঁচে থাকে কীভাবে জীবন
জীবন জীবাশ্মে দেখি শব্দচাষে কবি’র ভূবন
সবুজ জমিনে ফলে কবিতার অমিয় ফসল
সেখানে শব্দেরা আসে ভালোবাসে যে নিষিদ্ধ ফল
মুদিখানায় ফুরায় যে জীবন হিসাবের পা’য়
বিবর্ণ পাতার মতো পড়ে থাকে পথের ধুলায়!
ভূরির ওজনে যারা খুঁজে নেয় লাভের গণিত
হিসাবে মেলেনা তবু রাত দিন সুদাসল ভিত
হটকারী ঘূর্ণাবর্তে চাটুকার সময়ের দাস
আলো নেই মুক্তি নেই সবটুকু খায় মন বাঘ
তবে কোন সে জীবন বাজে আজ রাগ অনুরাগে
যে জীবন সাধু আর সাধনায় পথিকের পথ
জলের ধারায় সেই জীবনের চলো খুঁজি রথ
জলসচ্ছ সরোবর থেকে তুলি ঝিনুকের প্রাণ
বিষের বালিতে মুক্তো গেয়ে যায় আবুল হাসান।।
 
অহল্যা ঘ্রাণের কথা
 দুপুর পেরিয়ে সেই আচানক আমলকি ক্ষণ
তারপর কতো কতো আমসত্ত্ব গোধূলি
জামসন্ধ্যায় পেয়ালা ভরে ওঠে অধর অমৃতে
উপবাসী আরাধনা বেঁচে থাকে প্রাণের নেশায়
বোকাবাক্সে রাত্রি শুরু জাদুর তুলিতে
তৃতীয় প্রহর জাগে অপেক্ষার মেওয়ার মতো
জোনাকির রাত টানে চন্ডীদাস সুতোয় সুতোয়
কে বাজায় আর কেবা বাজে দোতারার সুরে
আহ্ রাত ও রজনী, দিনগুলো স্থবির চাতক
অহল্যা রজনী আসে দুটি ফুল নিষিদ্ধ সুবাসে
জীবনের দামে কেনা সেইসব আঙুর দিনরাত্রি
 
হাজার রজনী গল্প ফুরায় না সেই থেকে আজ
জানি, ফিরে আসবে না সে ……
তবু পোড়া ঘ্রাণ পাই বোধের দৃষ্টিতে
  • সোহাগ সিদ্দিকী : কবি, আয়কর পরামর্শক ও দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ