মানসম্মত মাস্ক পরানোর ব্যবস্থা করতে হবে

করোনায় মৃত্য আর আক্রান্তের রোজ নতুন রেকর্ড হচ্ছে দেশে। অবশ্য শুধু দেশে নয়, করোনায় মৃত্যুতে এখন বিশ্বের শীর্ষ দশে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঈদকে সামনে রেখে চলমান বিধিনিষেধ সপ্তাহখানেকের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেকেই দেখলাম এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। তবে কোভিড শুরুর পর গত তিনটা ঈদের অভিজ্ঞতায় সরকারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া কী অযৌক্তিক?
আচ্ছা আপনাদের কী গত ঈদের কথা মনে আছে? সরকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরেও নিম্ন আয়ের মানুষ ফেরিতে গাদাগাদি করে কী কষ্টটাই না করেছিল। সেখান থেকে করোনা তো আরও বেশি ছড়িয়েছে। দেখেন এই নিম্ন আয়ের মানুষকে কোনভাবেই আমরা ঢাকা রাখতে পারবো না। যতে কঠোর লকডাউনই দেন না কেন তারা বাড়িতে যাবেই। কাজেই ফেরিতে গাদাগাদি করে যাওয়ার চেয়ে গণপরিবহনে যাক। তাতে অন্তত করোনা কম ছড়াবে। আর ছোট বড় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোর কথাও ভাবতে হবে। সারাবছর যারা কোরবানিকে কেন্দ্র করে চলেন তাদের কথা ভাবতে হবে।
তবে ঈদে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কথা বলার আগে চলুন গত ১২ দিনের কঠোর লকডাউনের পরিস্থিতি যাচাই করি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে আরও ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভাবেন একবার রোজ যেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হচ্ছে সেখানে কিন্তু ঢাকা শহরের অধিকাংশ সড়কে এখন গাড়ির জট। মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের বের হওয়া তো থেমে নই। বরং রাস্তায় গাড়ির জট। আর কারণের তো অভাব নেই।
হিসেব করে দেখেন তো একটু, এই যে গত কয়েকদিন ধরে রোজ ১০-১২ হাজার হাজার আক্রান্ত হযেছে এরা কখন কোভিডে আক্রান্ত হলো? অবশ্যই ১ জুলাই কঠোর লকডাউন শুরুর পর পর থেকে গত ১২ দিনে। তার মানে কঠোর লকডাউন দেওয়ার পরেও লোকজনের চলাচল আসলে থেমে নেই। এখন তাহলে সমাধান কী?
আমি মনে করি না লকডাউন করোনা নিয়ন্ত্রণের কোন টেকসই পদ্ধতি। এর চেয়ে তিনটি পদ্ধিততে আমরা আগাতে পারি যেমনটা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এখন পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সফল এই জেলা। এই মডেল ধরে আগাতে আমাদের তিনটা কাজ করা উচিত।
১. গণটিকা।
২. শতভাগ মাস্ক।
৩. চাপাইনবাবগঞ্জের মতো প্রত্যেকটা গ্রাম-পাড়া মহল্লায় কমিটি।
দেখেন ইউরোপ আমেরিকা কিন্তু করোনার টিকা দিয়ে সবকিছু খুলে দিয়েছে। আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। টিকার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি ঘর থেকে বের হওয়া লোকজনকে শতভাগ মাস্ক পরানো নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সবাই মাস্ক পরে বের হলে ঝুঁকি অনেক কম। তবে যেনতেন নয় মানসম্মত মাস্ক পরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
পাশাপাশি মাস্ক পরা থেকে শুরু করে লোকজনকে সচেতন করাসহ সব বিষয়ে স্থানীয়ভাবে কাজ করতে হবে। ঢাকা থেকে বসে সরকার বা জেলায় প্রশাসন কিংবা পুলিশ তৃণমূলের ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে পারবে না। এই কাজটা করতে হবে পাড়া মহল্লার স্বেচ্ছাসেবীদের, জনপ্রিতিনিধিদের। প্রয়োজনে বিএনসিসি-স্কাউটসহ নানা সংগঠনকে কাজে আনা যেতে পারে।
এই তিন কাজের পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার দিকে জরুরীভাবে নজর দিতে হবে। দেখেন বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ঈদের পরপরই পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে যাবে। হাসপাতালগুলো রোগী রাখতে পারবে না। শয্যার সংকট তীব্র হবে। মৃত্যু হু হু করে বাড়বে। কাজেই আমাদের এখুনি সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দিনে ৫০ হাজার রোগী আসলে কী হবে সেই প্রস্তুতি আমাদের নেয়া উচিত এখুনি।
করোনার জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতটা ঢেলে সাজানো উচিত। প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলায় মডেল হাসপাতাল থাকা উচিত যাতে ঢাকায় কম চাপ পড়ে। এসব করতে যে বাজেট লাগবে সেই বাজেট বাংলাদেশে আছে বলেই আমি মনে করি। আগামী দুই বছর শুধু গাড়ি কেনা আর বিদেশ সফর বন্ধ রাখেন। দেখেন ৫-১০ হাজার কোটি টাকা হয়ে যাবে।
আশা করি নীতি নির্ধারকরা বিবেচনা করবেন কথাগুলো। আর সবার কাছে অনুরোধ, চলুন আমরা সবাই সচেতন হই। আপনাদের অনেকের মনে হতে পারে গ্রামের মানুষ সচেতন নয়। কিন্তু আমার মনে হয়েছে আমাদের শহরের মানুষও অসচতেনতায়, দম্ভে কোন অংশে পিছিয়ে নেই। আমাদের সবার বোধ জাগ্রহ হোক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন। ভালো থাকুক প্রিয় বাংলাদেশ।
  • করোনাকালের কথা, শরিফুল হাসান, ১২ এপ্রিল ২০২১, ঢাকা।

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ