মরণোত্তম ও ভাবনা

প্রথমত,
আমি সাদাত হোসাইনের বই পড়িনি— সম্ভবত উনার অনেক বইয়ের মাঝখানে একটা কবিতার বই আছে। বইটি থেকে কয়েক লাইন কবিতা পড়া হয়েছে। ভালো লেগেছে। সাদাত হোসাইনকে নিয়ে অনেক বাগাড়ম্বর আছে— অনেকেই বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ উনার বিরুদ্ধে দাঁড় করান। প্রথম অভিযোগটা হলো তিনি হুমায়ুন আহমেদকে কপি করে। এর আগে অভিযোগকারীরা একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান, কেন হুমায়ুন আহমেদকে কপি করা যাবে না? হুমায়ুনকে কপি করা যাবে না এই বয়ান সাহিত্যিক ফ্যাসিবাদ। বরং লেখার খাতিরে বা জীবনের খাতিরে কপি মারা বেঠিক হবে না। ভালো কিছুকে কপি মারা ফরজ কাজ। রবীন্দ্রনাথ কিংবা জীবনানন্দকে কোন কবি কপি না করে কবি হয়েছেন? সামান্য সময়ের জন্য হলেও কোনো এক অনুকরণীয় ফরম্যাট ব্যবহার করেছেন। এটা অপরাধ না।
দেখেন, আমি সেই বান্দা যে হুমায়ুন আহমেদের ১৫-২০ টা বই পড়েছি— আনিসুল হকের ‘মা’ ও ইমদাদুল হক মিলনের ‘নূরজাহান’ উনাদের আর কোনো বই আমি পড়িনি— উনাদের লেখাকে সর্বোত্তম না বললেও বেটার বলতে চাই। কারণ আমি বইয়ের জগতের মানুষ এখন, আমি সাহিত্য কিংবা পাঠকের চাহিদার বা পাঠক গড়ে না ওঠার ঘাটতিগুলো লক্ষ্য করছি।
দ্বিতীয়ত,
বাজারে লেখক বাজারে বই বলতে একটা বাঁকা কথা চালু আছে। আমার কাছে এই ‘বাজারে’ শব্দটা পজিটিভলি দেখতে ইচ্ছে হয়। বইয়ের বাজার ও সাহিত্যক, লেখক ও কবিদের বাজার থাকতে পারবে না কেন? কেন বই ও লেখকরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হতে পারে না?
সাহিত্যকে কুক্ষিগত করে রাখার প্রথা বহু আগেই ভেঙে গেছে। সিরিয়াস সাহিত্য ও আদি সাহিত্য বলতে কিচ্ছুটির অস্তিত্ব নাই কিংবা থাকলেও সেটা সবকিছু ভেঙে পড়ার মতো দমদম শব্দ করে ভেঙে পড়বে।
আমরা অধিকাংশই পরশ্রীকাতর। পরের সৌন্দর্য দেখলে হিংসা ও বিদ্বেষ হয়। ভাবি মহামতি বুদ্ধের চরণ ধুলায় পুণ্য এই ভূমি— এই ভূমিতে এতো ঘৃণার চাষ কিভাবে হয়। কেউ ভালো লিখলে সেইটাকে পড়তে চাই না, স্বীকৃতি দিতে চাই না— খুঁজে খুঁজে ভুল বের করি। এই প্রক্রিয়া আমাদের মননে বাসা বেঁধেছে। এই বাসা ভাঙতে হবে।
তৃতীয়ত,
সাদাত হোসাইনের মূল্যায়ন আমি করতে চাই না। কারণ উনার বইয়ের সাথে বা উনার সাথে আমার কোনো পরিচয় নেই। পরের কথা শুনে এক লাইনে ডেফিনেশন টানার কোনো অধিকার আমার নেই।
সাদাত হোসাইনের ‘মরণোত্তম’ নামের উপন্যাস অবলম্বনে একটা টেলি সিনেমা বানানো হয়েছে— বিষয়টা তো আনন্দের বিষয়। নতুন প্রজন্ম হলিউডি, বলিউডি সিনেমার পাশাপাশি রেখে একটা উপন্যাসকে টিভির পর্দায় দেখলো। কিন্তু অনেকেই এই টেলি সিনেমাকেও কপি করা বলছেন। আবারও সেই একই বয়ান। আমার আবারও একই প্রশ্ন মনে আসে। ভালো জিনিস কপি করতে পারবে না কেন? বৃষ্টিভেজা ঘাসের ওপর দিয়ে হুমায়ুন আহমেদ হাঁটলে, সাদাত হোসাইনও হাঁটতে পারবে।
শেষ কথা,
আমি এই সিনেমাটা দেখতে চাই। সিনেমার পোস্টার দেখে মনে হয়েছে এইটা বদখত বাংলা সিনেমা না। আমাদের বাংলা সিনেমায় প্রযুক্তির ছোঁয়া কিঞ্চিৎ লাগলেও— কনটেন্টেরও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আমরা পরিবর্তনকে স্বাগত জানাই। বাংলা সিনেমা আরো সমৃদ্ধ হোক তরুণদের হাত ধরে।
বনসাই বাড়ে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে— গোলাপঝাড়ও বাড়ে পৃথিবীর সমগ্র সৌন্দর্য নিয়ে প্রকাশ্যে।
রহিম রানা
সম্পাদক, জাগতিক ডট কম

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ