বইয়ের বাজার ও কপিরাইট

যে-কোনও জাতির বুনিয়াদ গড়ায় ভাষা প্রথম হোতা। ভাষা আমরা যত বলি, তার চেয়ে কম লিখি, তারও চেয়ে কম পড়ি। কেউ কেউ আবার বই দিয়ে ড্রইং রুম সাজান।

গ্রন্থপাঠক ও গ্রন্থগ্রাহক- দুইয়ের যোগফল হল বিশ্বের গ্রন্থগরিমা। আর এই দুইয়ের সংযোগসেতু গ্রন্থ-কারবারী। এই তিনের গতিপ্রকৃতিতেই বিশ্বের গ্রন্থসাম্রাজ্য চালিত হয়। তবে এই সাম্রাজ্যে এই তিনের অভিমুখ তিনরকম। গ্রন্থ-কারবারীদের দ্বারা দেশের পুঁজিবাদী শক্তির একটা অংশ প্রভাবিত হয় নিঃসন্দেহে। প্রমাণ ইউরোপ। ইউরোপে গ্রন্থপাঠকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়ে কপিরাইট যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের মূলে কীভাবে আছে তা জলের মতো পরিষ্কার।

আন্তর্জাতিক বাজারে কপিরাইট অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও দৃষ্টিকটু করেছে। ছোট ছোট দেশ, পিছিয়ে পড়া দেশে ভাষা ও সাহিত্যচর্চা ব্যয়সাপেক্ষ। তারা কপিরাইটের জন্য পিছিয়ে পড়ছে। ইউরোপের বাজারে বইয়ের কপিরাইট উঠে গেলে আর্থিক লোকসান হয় না, কেননা লেখার মান অনেক উন্নত বলে বেস্টসেলারের আরও বেশি বিক্রি হয়। তাই এক শ্রেণির প্রকাশক ও বিক্রেতার মত, বইয়ের কপিরাইট উঠে গেলে মুনাফা বেশি হবে।

বাংলা বইয়ের বাজারের এখানেই গণ্ডগোল। বাজার সীমিত। ক্রেতার পকেটে টান। আর মুনাফাখোরদের মুনাফার লোভে যে-কোনও মুহূর্তে গ্রন্থের আসল-নকল একাকার হয়ে যায়।

একবার ঢাকায় বইমেলায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় গিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। একটি স্টলে গিয়ে দেখলেন তাঁর রচিত ‘রাধাকৃষ্ণ’ বইটি ঝড়ের মতো বিক্রি হচ্ছে। দাম খুব সস্তা। বইটির পাঁচ ছ’কপিতে অটোগ্রাফ দিয়ে স্টল থেকে বেরিয়ে সঙ্গী বাদল বসুকে বললেন- ‘সব ক’টা বই জাল ছিল।’

দেশভেদে কপিরাইট উঠে যাওয়া আর উঠে না-যাওয়ার যৌক্তিকতা বিচার্য খুবই সেনসিটিভ বিষয়। তার চেয়েও জরুরি এটা ভাবা যে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ- বেশি মুনাফা নাবিক বেশি মানুষের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া?

 

 

  • মৃদুল দাস, প্রাবন্ধিক

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ