পোড়া মানুষের লাশগুলো দেখে আমরা আনন্দিত

বাঁ কাঁধে রাইফেলটা রেখে এগিয়ে যাচ্ছি জানি না কোথায় থামবো। পথে শত্রুর আক্রমণ হতে পারে, ধেয়ে আসতে পারে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি; তবুও চলছি, বাঁ কাঁধে রাইফেলটা রেখে। দীর্ঘদিনের বন্ধুর ব্যাকপেইন, পেটের উপরের দিকটা ফুলে গেছে– পাইলসেরও সমস্যা; রক্ত ঝরে। রক্ত ঝরে– কৃষকের, শ্রমিকের আরো কতজনের শহরের বুদ্ধিজীবীরা মুখ লুকায় বউয়ের আঁচলে, মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে চলে অথচ এরা ভুলে গেছে– প্রত্যেকটা প্রাণিকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। সুতরাং লড়ুন, আগামীর জন্য লড়ুন– বেহায়ার মত না মরে বুকে বুলেটের আঘাত নিয়ে মরুন, আঘাত করে মরুন।
মৃতদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে গরীবদের। নরক নয় স্বর্গ তো নয়-ই, কোথাও জায়গা নেই জীবিত থাকতে ক্ষুধার যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে পিতা দু হাত তুলে ভিক্ষে চেয়েছিল ঈশ্বরের কাছে; মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। শেষমেশ গলায় দড়ি দিয়ে মরলো পরিবারের পাঁচজন!
পোড়া মানুষের লাশগুলো দেখে আমরা আনন্দিত কান উৎসবে আমাদের চলচ্চিত্র প্রশংসিত বলে। এদিকে বাঞ্চোদ জনতা আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল– পক্ষ বাছায় ব্যস্ত! এরপরেও যারা বলে– আমি রাজনৈতিক নই, তারা পাক্কা শয়তান; খুনির পক্ষে।
ওরা আমাদের মাথাকে বেছে নেয় গুলি করার জন্য মগজের জোর ওরা টের পেয়ে গেছে– যেকোনো সময় শত্রুর সমর বাহিনীকে পরাস্থ করে দিতে পারি। ওরা আমাদের বুকে গুলি করে বুঝে গেছে নিপীড়িত জনতার ভালোবাসা থাকে বুকে– যা মুহুর্তেই আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে বুর্জোয়া নগরে। অথচ ওরা জানে না, একটি বুলেটের আঘাতে শরীর থেকে যত ফোটা রক্ত ঝরে পড়ে– তার প্রতি ফোটা থেকে জন্ম নেয় আগামীর যোদ্ধা।
কবিতার অবিচ্ছেদ্য শরীর জুড়ে কৃষকের ঘাম শ্রমিকের রক্ত জল করা খাটুনি আবেগ জড়িয়ে মিশে থাকে শেষ লাইনে। কয়েকটা শব্দ প্রখর হয়ে বিঁধে যায় মগজে– যার নাম দেয়া হয়েছে বুলেট কৃষক-শ্রমিকের শক্ত হাতে ধরা একে ৪৭ রাইফেল থেকে বেরিয়ে যা কখনো ফুটে করে দেয় ঘুণধরা রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড।
বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত আমার নাড়ী পোতা এই জমিনে আজ রক্তে পিচ্ছিল হয়ে গেছে যেখানে! এখানে সোনালী ফসল ফলবে একদিন মনে রেখো তোমাদের সঙ্গে সেদিন হাসবো, হাসবে আরো লাখো শহীদ– একদিন যারা এই ফসলের জন্য দিয়ে গেছে জান।
কবিতার শব্দগুলো বারুদে ঠাঁসা রাষ্ট্রীয় চরম নিপীড়নে একদিন বিস্ফোরিত হবে, ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে সমস্ত শরীর। ভূখন্ডের উত্তর দিকে পড়ে থাকবে পা জোড়া, হাত জোড়া পড়ে থাকবে দক্ষিণ দিকে; বারুদের বিদগ্ধ গন্ধ শুকে নতুন দম নিবো– কবিতা লিখবো আবারো, নতুন শব্দে। ফুল-পাখি লতাপাতা থাকলেও তাতে নতুন করে মেশানো থাকবে বারুদ আবারো কোনো বিস্ফোরণের জন্য; যতদিন শ্রমিকের রক্ত ধমনীতে স্বাভাবিক নিয়মে প্রবাহিত না হবে।
  • শাকিল মাহমুদ : লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ