ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে স্মরণ করছি : লীলা নাগ ও সুষমা সেনগুপ্তকে

১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ বিদ্যাপীঠ নানান ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইটগাঁথাতেই যেন হাজার স্মৃতি, অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সাক্ষী-বটতলা, মধুর ক্যানটিন, কলাভবন, শহীদ মিনার এমন কোনো জায়গা নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের, যেখানে ইতিহাস-ঐতিহ্যের ছোঁয়া নেই। পূর্বসূরীদের জীবনেতিহাস পড়লে বিষয়গুলোর আরো স্পষ্ট হয়।

১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। এ ৮৪৭ জনের মধ্যে নারী ছিলেন একজন। কিন্তু ইতিহাসের অতলে ইতিহাস লুকিয়ে থাকে, যে ইতিহাসের অতল গভীরে হারিয়ে যাওয়া সুষমা সেনগুপ্তও ছিলেন, লীলা নাগের সঙ্গে। যেটি আমাদের অজানা ইতিহাস। এখানেই বলতে হয়, যা ইতিহাসে নেই; তাকেই ইতিহাস অনুসন্ধানুদের বের করা কাজ। যেটি আমাদের খুব একটা হয়নি।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন তাদের এ নামটি জানারই কথা। কিন্তু কতটুকু জানেন, শুধুমাত্র নাম কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হিসেবে! লীলা নাগ একজন বিপ্লবী ছিলেন। সংগ্রামী জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি সাংবাদিক, জনহিতৈষী এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয়-একনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। সেসময়ে ইতিহাস যারা জানেন, তারা বুঝতে পারবেন এটি কতটাই দুঃসাধ্য কাজ ছিল। কিন্তু আজ আমাদের ছাত্রীদের অবস্থা কী? …‘যাইহোক, তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকার ইডেন স্কুলে। ১৯২১ সালে তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ‘পদ্মাবতী স্বর্ণ পদক লাভ করেন। ১৯২১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এমএ ভর্তি হন। ১৯২৩ সালে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। তিনিই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমএ ডিগ্রীধারী। তখনকার পরিবেশে সহশিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলে লীলা রায়ের মেধা ও আকাঙ্ক্ষা বিচার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চান্সেলর ড. হার্টস তাকে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন।

শিক্ষা জীবন থেকেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল। কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে বড়লাটের পত্নীকে নতজানু হয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা বাতিলের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯১৯ সালে ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে আইএ পাশ করেন লীলা। এরপর ১৯২১ সালে বেথুন কলেজ থেকেই বি.এ পাশ করেন তিনি। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এম.এ করার জন্যে ভর্তি হন।

তখনও ঢাবিতে সহশিক্ষার প্রচলন ছিল না। তার জেদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়বেন। মেয়েরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না এই মর্মে লীলা চ্যান্সেলর (বাংলার গভর্ণর) ও ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে দেখা করে নিজের কেস প্লীড করেন। তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর পি জে হার্টজ লীলার মেধা ও আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিশেষ অনুমতি প্রদান করেন। তার ভর্তি ক্রমিক নাম্বার ছিল ২৫। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

অবশ্য লীলা একাই সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন না। সেই শিক্ষাবর্ষে (১৯২১-২২) ঢাবির অর্থনীতি বিভাগে বি.এ (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হন আরেকজন ছাত্রী, সুষমা সেনগুপ্ত। সুষমা ছিলেন সেই সময় ঢাবির আইনের অধ্যাপক ও জগন্নাথ হলের প্রথম প্রাধ্যক্ষ নরেশচন্দ্র সেনগুপ্তের মেয়ে। সুষমা সেনগুপ্তের নিজস্ব স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, “আইএ পড়তে পড়তে আমার বিয়ে হয়ে গেলো। ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হলো। বিএ পড়তে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। সে বছর লীলাও এমএ ক্লাসে ভর্তি হলো। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে আমরা দুজন প্রথম ছাত্রী। এক কমন রুমে বসতাম দুজন। ক্লাসে যাবার সময় অধ্যাপক আমাদের ডেকে নিয়ে যেতেন।” অর্থাৎ, প্রথম ছাত্রী হবার তকমা লীলা নাগ ও সুষমা সেনগুপ্ত দু’জনকেই দেয়া যায় বৈকি।

লীলা নাগ কর্মজীবনে মহিয়সী ছিলেন, বিপ্লবী হিসেবেও তিনি পরিচিত। অপরদিকে সুষমা সেনগুপ্ত একজন সাধারণ ছাত্রী ছিলেন। বি.এ পাশ করার পর তিনি আর পড়াশোনা করেছেন কিনা তাও জানা যায় না। তাই লীলা নাগ এককভাবে বারবার এসেছেন আলোচনায়, লাভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীর মর্যাদাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন রেজিস্টার থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। এরপরের তিন শিক্ষাবর্ষে আর কোনো ছাত্রী ভর্তি হয়নি। ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হন ফজিলাতুন্নেসা। এরপর ১৯২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ছাত্রীরা আসতে শুরু করেন। ১৯২১ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ৭১১ জন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।’ সূত্র : রোর মিডিয়া

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম ইতিহাস

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতা। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাস করে ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। প্রথিতযশা শিক্ষাবিদের পদচারণায় ধন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। প্রতিষ্ঠালগ্নে এখানে শিক্ষক হিসেবে ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ সি টার্নার, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌, জিএইচ ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিএ জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, এএফ রহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা অগ্রগামী ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রছাত্রী শহীদ হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে। এগুলো সব স্মৃতির কথা; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি কী? যা খুবই লজ্জাজনক এবং হতাশাজনক। এরকম পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে, রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা কী? সেটি আমরা খুব স্পষ্টভাবেই দেখতে পাই, যেখানে ছাত্ররাজনীতির নামে গুণ্ডামীকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, নারী নির্যাতন-নিপীড়ন-ধর্ষণের মদদদাতাও আবার ওইসমস্ত নামধারী ছাত্ররাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা ছাত্ররা।

সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অবস্থা যদি এতটাই নাজুক হয়, তাহলে আর প্রত্যাশার জায়গা থাকে কী? ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের পরেই ঢাকায় পাকিস্তান-বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। যে আন্দোলনগুলোতও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর ২৫ বছরের আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে পরিণত হলো।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় একটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। নতুন প্রজন্ম তৈরি করা, সেই প্রজন্মের সঙ্গে নিত্য নতুন জ্ঞান, গবেষণার সংযোগ স্থাপনের জন্যই তো দরকার বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তখনই সফল হতে পারে, যখন সেখানে জ্ঞান উৎপাদন হয়, চর্চা হয়, গবেষণা-শিক্ষা প্রাধান্য পায়। আমাদের দেশে সমস্যাটা হলো- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকার যে চোখে দেখে, সেখানে জ্ঞানচর্চা বা গবেষণার গুরুত্ব নেই। সেখানে গুরুত্ব পায় একটি অধীনস্ত এবং অনুগত জনগোষ্ঠী তৈরি করা। আর অনুগত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে গেলে সেখানে শিক্ষকদের মেরুদণ্ডহীন করতে হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি অনুগত গোষ্ঠী তৈরি করতে হয়। যে কোনো ভিন্ন চিন্তা বা নতুন চিন্তাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে সন্ত্রাসের আশ্রয় নিতে হয়। এগুলোর মধ্য থেকেই জন্ম নেয় দুর্নীতি, ভুল নিয়োগ- যাদের শিক্ষক হওয়ার কথা না, তারা শিক্ষক হয়। এর কারণে সমাজের প্রত্যাশা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ আছেন, যাদের মেধা ও যোগ্যতা আন্তর্জাতিক মানের; কিন্তু এখানে গবেষণায় গুরুত্ব ও যথেষ্ট বরাদ্দ না থাকা এবং সন্ত্রাসী ও অনুগত বাহিনীর আধিপত্যের ফলে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশই তৈরি হয়নি। প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, সরকার প্রশাসনকে বাছাই করে এমন সব লোকদের দিয়ে, যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে সক্ষম নয় কিংবা যারা দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করবে। এর ফলে ওই প্রতিষ্ঠানে কিভাবে মুক্ত চিন্তা হবে, কিভাবে শিক্ষা-গবেষণা হবে, কিভাবে নতুন চিন্তার যোগ হবে! এই সমস্যা সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে; কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও বেশি বেদনাদায়ক। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠতে পারেনি- এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘এ কথা বলার আগে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ বা সরকার এটি কখনো চেয়েছে কিনা! এর সঙ্গে বাজেটের বিষয় যুক্ত, পরিকল্পনা এবং আকাক্সক্ষার বিষয়টি যুক্ত। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুখে মুখে শ্রদ্ধা-সম্মান ছাড়া কার্যত এ ব্যাপারে কখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি আমাদের সমাজ বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র। এর প্রমাণ হলো- গবেষণা কার্যক্রম। সারাবিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে কাজ হয়, তার কোনো ধরনের কাঠামো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। গবেষণায় ঢুকতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে। সেই পরিবর্তনের দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কখনো আকাঙ্ক্ষা দেখায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় না, বিশ্ববিদ্যালয় পারে না- এসব একদম বানোয়াট কথা। ওই ধরনের ব্যাপারের মধ্যে আমরা আসলে কখনোই যাইনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘অক্সফোর্ডে যে গবেষণা হচ্ছে, তা যদি কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যাশা করেন, তা হবে ইতর সামাজিক প্রত্যাশা। যেভাবে অক্সফোর্ড কাজ করে, যেভাবে গবেষণা প্রকল্প নেয়, রাষ্ট্রের সঙ্গে বা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে, বা বাজেট পায়; সেইসঙ্গে পিএইচডি গবেষণা, মাস্টার্সে গবেষণা, শিক্ষকদের প্রকল্পে গবেষণা- এই লম্বা প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র বা পুঁজিপতিরা কখনো ভাবেনি। কখনো খবর নেয়নি। এখন হঠাৎ করেই একটি আকাক্সক্ষা জেগেছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিছু করবে। এর মানে- তারা গবেষণা বলতে কিছু জানে না।’

সমাজ-রাষ্ট্রের যে অবস্থা থাকে তার ছাপই পুরো সমাজব্যবস্থার উপর পড়ে। বর্তমান চরম পুঁজিবাদী, অগণতান্ত্রিক একটি সমাজব্যবস্থায় শুধু ছাত্রসমাজই সংকটে আছে তা নয়, সবধরনের শ্রেণিপেশার মানুষ সংকটকালীন সময় কাটাচ্ছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবর্ষে একটি কথাতেই জোর দিতে হবে, সমাজকে কলুষমুক্ত করতে হলে, সুন্দর-সাম্য-ভালোবাসার সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

 

 

  • লাবণী মণ্ডল : ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, প্রান্তবার্তা

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ