চার্লস বুকোস্কির অপ্রকাশিত কবিতা

চার্লস বুকোস্কি (১৬ আগস্ট ১৯২০-৯ মার্চ ১৯৯৪) কবিতা ও গদ্যে আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমসাময়িক লেখক। জন্মগ্রহণ করেছিলেন জার্মানিতে। বাবা ছিলেন আমেরিকান সৈনিক আর মা জার্মান নাগরিক। বুকোস্কির বয়স যখন দুই বছর তখন তাকে নিয়ে আসা হয় আমেরিকায়। তার লেখা তার জন্ম শহর লস অ্যাঞ্জেলসের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলো। তার কবিতায় দরিদ্র আমেরিকানদের সাধারণ জীবন, লেখার নমনীয়তা, অ্যালকোহল, নারীদের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি তীব্রভাবে প্রকাশ পায়। বুকোস্কি হাজার হাজার কবিতা, কয়েক’শ ছোটগল্প এবং ছয়টি উপন্যাস লিখেছিলেন, প্রকাশ করেছিলেন ৬০ টিরও বেশি বই । বুকোস্কি লস অ্যাঞ্জেলসের আন্ডারগ্রাউন্ড নিউজপেপার ওপেন সিটিতে ‘নোটস অফ এ ডার্টি ওল্ড ম্যান’ নামে কলাম লিখতেন। এফবিআই তার কলাম ‘নোটস অফ এ ডার্টি ওল্ড ম্যান’ এর কারণে একটি ফাইল খুলেছিলো এবঙ তার ওপর নজর রাখতো। আমাদের সচরাচর জীবনযাপন আর সাহিত্য লেখার মধ্যে একটা আড়াল আছে। বুকোস্কি তার সাহিত্যে সেই আড়াল রাখেননি। তাই তার কবিতা পড়ার আগে তথাকথিত ভদ্রলোকি লেবাস, মধ্যবিত্ত ব্যারিকেট কিঙবা মুখোশ থেকে বেড়িয়ে এসে বসতে হবে বইয়ের সামনে। আর তা না হলে পাঠক স্ল্যাঙ স্ল্যাঙ করতে করতে বমি করে ভাসিয়ে দিতে পারে। চার্লস বুকোস্কির কবিতা অনুবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ভাষায়। বাংলায় ভাষায়ও জাগতিক প্রকাশন থেকে ‘চার্লস বুকোস্কির অপ্রকাশিত কবিতা : সোজা তোমার কবরে যাও’ শিরোনামে বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। অনুবাদ করেছেন প্রতিযশা অনুবাদক কায়েস সৈয়দ

ঠিক সেরকম

পর্দার সবচেয়ে সুন্দরী স্বর্ণকেশী
অবিশ্বাস্য স্তন পা কোমর নিতম্ব
সবকিছু
গাড়ির ঐ সঙঘর্ষে
এটা সোজা তার মাথা নিয়ে গেছে শরীর থেকে
ঠিক সেরকম
যেনো গড়িয়ে যাচ্ছিলো তার মাথা রাস্তার পাশ দিয়ে
লিপস্টিক দেয়া
ব্রু প্লাগ করা
ফেস পাউডার দেয়া
রুমাল দিয়ে বাঁধা চুলের চারপাশ
ঠিক যেনো সৈকতে খেলার গোল বল
আর গাড়ির মধ্যে দেহটি বসা ছিলো
ঐ স্তন পা কোমর নিতম্ব সহ
সবকিছু সহ
তারা তাকে রাখলো আবার কফিনে
সেলাই করে দিলো মাথার পেছনে
ওহ যিশুখ্রিস্ট
অবজ্ঞার সাথে লোকটি বললো
কি অপচয়!
তারপর সে বাইরে চলে গেলো আর খেলো
একটি বার্গার
ফ্রেন্স ফ্রাই
এবঙ
দুই কাপ কফি
কালো

ছিঁড়ে ফেলো

যখন একটি কবিতা কাজ করে না, ভুলে যাও, আঘাত করো না, আদর করো না
বিরক্ত করো না, জোড়া তালি দিয়ে একে তৈরী করো না
অথবা জন্মগ্রহণ করো আবার
খ্রিষ্টান

যখন একটি কবিতা কাজ করে না, টেনে বের করে ফেলো যন্ত্র থেকে কাগজ
ছিঁড়ে ফেলো, ছুঁড়ে ফেলো বাস্কেটে
ভালো লাগবে

শোনো, তুমি লিখো কারণ সেটা শেষ মেশিনগান
শেষ পাহাড়ের উপরে

তুমি লিখো কারণ তুমি তারের উপর বসে থাকা একটি পাখি
হঠাৎ তোমার ডানাগুলো ঝাপটায়
তোমার ময়লা পোঁদ উপরে উঠে আসে বাতাসে

তুমি লিখো কারণ পাগলা গারদটি বসে সেখানে ঢেকুর তুলছে আর পাদছে
মন এবঙ শরীরে কড়া, তুমি লিখো কারণ তুমি ভয় পাও
চূড়ান্ত পাগলামি…

যখন একটি কবিতা কাজ করে না, এটা কাজ করে না, ভুলে যাও
গতি ই সারর্মম

আমি এক মহিলাকে চিনি যিনি অনেক অনেক কবিতা লিখেন
যেনো তাকে অবশ্যই ঘুম থেকে উঠতে হবে সকাল ৭ টায়
আর তাকে টাইপ করতে হবে মধ্য রাত অবধি
তিনি নিজের সাথে নিজে প্রতিযোগিতায় আছেন কবিতা লেখার

যখন একটি কবিতা কাজ করে না, এটাই শেষ না, এটা পচা কলা না
কল দিয়ে ব্ল্যাঞ্চ হিগিন্সকে চাওয়া রং নাম্বারও না

যখন একটি কবিতা কাজ করে না এর কারণ তুমি এটি পাওনি ঐ সময়ে
কিঙবা পেয়েছো অন্য কোনো সময়ে

কাগজটি নেও, ছিঁড়ে ফেলো, বাস্কেটে ছুড়োঁ
তারপর অপেক্ষা করো
তবু বসো না যন্ত্রের সামনে, অন্য কিছু করো
টেলিভিশন দেখো, বউকে হ্যালো বলো, বিড়াল পোষো

সবকিছু কাগজের তৈরি নয়

শান্তি আর ভালোবাসা

ফিরে আসো ষাটের দশকে
একটি কলাম লিখেছিলাম আমি
একটি হিপি পত্রিকার জন্য

আমি হিপি ছিলাম না
(আমার চল্লিশের দশকে আমি ছিলাম)
তবে আমি ভেবেছিলাম
সপ্তাহে একবার
আমার ভুল দৃষ্টিভঙ্গি
প্রকাশের অনুমতি দেয়ার জন্য
কাগজটি ছিলো
খুব ভালো

সৃজনশীল
এই প্রতিটি কাজের জন্য
আমাকে দেয়া হতো
১০ ডলার (মাঝে মাঝে)

সেসময়
এই কাগজকে
বিট করার জন্য
আরেকটি হিপি পত্রিকা ছিলো
প্রতি কলামের জন্য
তারা আমাকে ২০ ডলার
দিতে চাইলো

তাই আমি
একজোড়া ছয় প্যাকের শেষে
৫ বুক পার্থক্যে
অন্য কাগজে ঝুলতে থাকি
অন্য সম্পাদকের সাথে

হিপি পত্রিকা সম্পর্কে
আমার ভাবনা ছিলো সুন্দর
আমি যখন হাঁটতাম
সবাই জোরে আমার নাম ধরে ডাকতো :

“এই চিনাস্কি”

“চিনাস্কি”

আমার সেটা ভালো লাগতো
মনে হতো যেনো স্টার হয়ে গেছি

আর তারা চিৎকার করে এটাও বলতো
“ শান্তি আর ভালোবাসা”

“ শান্তি আর ভালোবাসা”

অসংখ্য
অল্প বয়ষ্ক
ছোট বাচ্চারা
আমার দিকে চিৎকার করে বলতো
আমার সেটা ভালো লাগতো
যদিও
আমি
কখনোই
সামান্য হাসির মধ্য দিয়ে
ফিরিয়ে দেইনি অভিবাদন
এবঙ প্রায় অদৃশ্য
বাম হাতের ঢেউখেলানো

ভেতরে যাওয়া সম্পাদককে দেখতে
এবঙ তাকে বলা “শুনুন, আপনি এখানে
সুন্দর একটা জায়গা পেয়েছেন, আমরা কাজ
পেয়েছি কিছু করতে…”

আমরা এখনো
পারিনি বলে মনে হচ্ছে
কিন্তু আমি এখানেই
কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম

এক সপ্তাহ পরে
যখন সেখানে গেলাম তখন দেখলাম
পুরো জায়গাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে
কেউ নেই
কিছু নেই
সেখানে…

ওয়েল
আমি ভেবেছিলাম
হয়তো তারা স্থান পরিবর্তন করেছে
হয়তো তারা সস্তায় কোনো জায়গা খুঁজে পেয়েছে

তাই
সেখান থেকে সরে এলাম
আর একাকী হাঁটলাম
আর ক্যাফেতে তাকালাম ঠিক
যেমনটা আমি করতাম
আর দূরদৃষ্টিগুলোর মধ্যে
সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা হলো :

সম্পাদক
টেবিলেই বসা ছিলো
তাই
আমি ভেতরে গেলাম
সে আমাকে ভেতরে আসতে দেখলো
আর বললো
“বসুন, চিনাস্কি”

আমি বসলাম
আর জিজ্ঞেস করলাম :

“কি ব্যাপার?”

“এটা দুঃখজনক,আমরা যখন
সার্কুলার আর বিজ্ঞাপন নিচ্ছিলাম
ঠিক তখনই
আমাদেরকে গুটিয়ে নিতে হলো”

“তাই? মানে?

“ওয়েল, ওদেন ৪/৫ জনের
থাকার কোনো জায়গা ছিলো না
আমি তাই তাদেরকে বললাম
রাতে তারা অফিসে থাকতে পারে
যতক্ষণ তারা অফিসকে
শান্ত ও অন্ধকার রাখে…
তাই তারা নিয়ে আসলো তাদের পানি
তাদের বিছানা, তাদের তামাকনল, এসিড
তাদের গিটার, তাদের তৃণ
তাদের বব ডিলান এলবাম
মনে হয়েছিলো সব ঠিকঠাক আছে…”

“তাই? তারপর??…”

“রাতে তারা
টেলিফোন ব্যবহার করতো
চীন, ভারত, ফ্রান্সের মতো
অনেক দূরবর্তী জায়গায়
কথা বলতো
তবে বেশিরভাগই ছিলো
লোকাল কল
কিন্তু যেখানেই তারা কল দিতো
সব সময় দীর্ঘ সময় কথা বলতো
কোথাও ৪৫ মিনিট ধরে
কোথাওবা সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে…”

“ও যিশু…”

“হুম, আমরা বিল দিতে পারি নাই
অতএব আমাদের পরে
আর কোনো ফোন না
আর কোনো সংগ্রহ সংস্থা না
আমাদেরকে গুটাতে হয়েছে…”

“সরি, ম্যান…”

“ঠিক আছে…”

“আমি কয়েকটা সবুজ নোট পেয়েছি”
আমি তাকে বললাম
“চলুন একটি বার খুঁজে বের করি…”

বেশ
আমরা খুঁজে পেলাম একটি বার
সে অর্ডার করলো
একটি স্কচ আর সোডা
আমি অর্ডার করলাম
একটি হুইস্কি
টক
আর আমরা সেখানে বসে ছিলাম
মুখোমুখি
বলার অপেক্ষা রাখে না কিছুই

কিছুক্ষণ পর
সেখানে বসেই
একইভাবে আবার পান করা

সে আমাকে বললো
তার স্ত্রী
তাকে ছেড়ে চলে গেছে
এক রিয়েল স্টেট এজেন্ট এর কাছে
যে কিনা কাজ করেতো
আরিজোনা ও নিউ মেক্সিকোর বাইরে
ভাবনাগুলো চলে যাচ্ছিলো সেখানে
বিশেষ করে
ভালো ভাবনাগুলো
বেশির ভাগ
সান্তা
ফ্রান্সিসকোর
চারপাশে

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ