গাছ পড়ে থাকে নিথর লাশের মত

নিথর লাশের মত পড়ে থাকা উদ্যানের গাছগুলো নিয়ে আমার প্রাণে ততটা ব্যাথা নেই। বরং বুকটা ভার হয়ে আসে বন্ধু আহমেদ মুনীরউদ্দিন তপুর কথা মনে করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রতিটা অশোক, জারুল আর যাবতীয় বৃক্ষ তপুর প্রাণের দোসরের মত। আর আমার বলাইয়ের কথাও মনে পড়ে। কাকীর কোলে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলাই বলছে– “কাকি, তুমি কাকাকে বারণ করে দাও, গাছটা যেন না কাটেন।” এরপর একদিন নির্লজ্জের মত বেড়ে উঠতে থাকা শিমুল গাছটিকে ঠিকই কেটে দেয় কাকা। গল্পের বলাই মরা গাছের মত ম্রিয়মান হয়ে যায়। উদ্যানের অশোক গাছের জন্য গুরুতর মায়া না লাগলেও গল্পের বলাইয়ের কথা বুকটাকে ব্যাথাতুর করে দেয়। প্রায়ই দুপুর বেলা তপু আমাকে ফোন করতো উদ্যান থেকে। হেঁটে হেঁটে গাছেদের খবর নিতে নিতে তপু আমাকে ডাকতো। ওইসব সাধারণ দুপুরগুলো উদ্যানে কেমন অত্যাশ্চার্য হয়ে উঠতো। আহারে অশোকফুল! আহারে কাঠালচাপা ফুল! তপুও কি বলাইয়ের মত কারো বুকে মুখ রেখে কাঁদতে চাইছে? ওর কি আছে তেমন কোনো কান্নার সংগী?
গাছ পড়ে থাকে নিথর লাশের মত, আর মুনিয়ার লাশটা বিছানার উপর পড়েছিল ঠিক কাটা গাছের মত। দৃশ্যের মধ্যে কি আশ্চর্য মিল? সকাল থেকে মেয়েটা ডাকছিল বোনকে। আপু তাড়াতাড়ি আসো, আপু প্লিজ তাড়াতাড়ি আসো– আমাকে বাঁচাও। হায়রে বাঁচার আকুতি উনিশ কুড়ি বছরের একটা তাজা প্রাণের! শুধু প্রাণে বাঁচতে চেয়েছিল। পুজের মত বিষাক্ত পুঁজির খেলায় মত্ত রাষ্ট্র ও সমাজের পাথর হৃদয়ে আকুতির কোনো মূল্য নেই। ওদের বিপরীতে আমাদের ক্ষমতা একটা অনড় পাথরের থেকেও কম। মেয়েটাকে মেরে ফেললো, সবাই বোঝে– বলে দিচ্ছে আত্মহত্যা…
অনেক বছর পরে কোনো এক রেকর্ডবুকে হয়ত লেখা থাকবে– ২০২১ সালের এপ্রিল মে মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অগনিত অশোক, জারুল, কাঠালচাপা আর রেইনট্রি আত্মহত্যা করেছিল। আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করে জানা যাবে আরো চমকপ্রদ, তব্দা খেয়ে যাবার মত এক তথ্য। গাছগুলো আত্মহত্যা করেছিল কারণ তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিপক্ষ হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছিল!
……………
বাকি বিল্লাহ
এক্টিভিটস

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ