কোন বিচারের আশা করিনা আমি, শুধু এই হাস্যকর মিথ্যার প্রতিবাদটুকু জানিয়ে গেলাম এখানে : বন্যা আহমেদ

বন্যা আহমেদ
বিচারের প্রহসন করবেন ভালো কথা কিন্তু তাই বলে এরকম স্রেফ মিথ্যা কথা বলবেন? কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাকে ফোন করলো? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আমার নামে এরকম নির্লজ্জ মিথ্যা কথা বলার কি খুব দরকার ছিল?
সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার জাকির বলেছে, ‘তাকে(বন্যাকে) যথাযথ পদ্ধতিতে দূতাবাসের মাধ্যমে আদালতের সমন পাঠানো হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছেন, সাক্ষ্য দেয়ার আমার শতভাগ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আসতে পারছি না।’ – বিডিনিউজ। লিঙ্ক কমেন্টেও দিচ্ছি।
আমার সাথে গত ছয়(প্রায়) বছরে এফবিআই ছাড়া কেউ যোগাযোগ করেনি। আগেও লিখেছি এ নিয়ে, এখন আবারো বলছি, বাংলাদেশ সরকার বা আমেরিকায় বাংলাদেশের এম্বাসি থেকে কেউ কখনো যোগাযোগ করেনি আমার সাথে। কেউ আমাকে সাক্ষী দিতে বলেনি, বাংলাদেশের কেউ সরাসরি জানতে চায়নি বা আমাকে জানায়নি কী হয়েছিল সেদিন, কাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ ছিল, কাদের আমন্ত্রণে সেদিন আমরা মেলায় গিয়েছিলাম, কেন সেদিন বিকেল ৫:০০টায় দেখা করার কথা বলেও ফারসীম মান্নানরা সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত দেরি করিয়েছিল, এ ব্যাপারে কোন তদন্ত হয়েছে কিনা, কেন সারা মেলায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও ঠিক যেখানে আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল সেখানে ছিল না।
অথচ আমেরিকায় বাংলাদেশ এম্বাসি খুব ভালো করেই জানে আমি কোথায় থাকি। আমি যখন ইউএস কংগ্রেসে এ ব্যাপারে ব্রিফিং দিতে গিয়েছিলাম সেখানে বাংলাদেশ এম্বাসি থেকে বেশ কয়েকজনকে পাঠানো হয়েছিল আমি কী বলি শুনতে কিন্তু সেদিনও কেউ আমার সাথে অফিসিয়ালি একটা কথাও বলেনি। এই ‘তথ্যপ্রযুক্তির’ যুগে আমার ঠিকানা, ফোন নম্বর বা ইমেইল খুঁজে বের করা মোটেও কঠিন কিছু নয়।
গত ছয় বছরে কম তো প্রহসন দেখলাম না। সেই ২০১৫ থেকে একে তাকে এরেস্ট করে পরে বলেছে নাহ এরা আসামী নয়। প্রাক্তন মেজর জিয়াসহ প্রধান দুই-তিনজন আসামী দিব্যি ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে, তাদের টিকিটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অথচ এই প্রাক্তন মেজর নাকি সশরীরে আক্রমণের দেখ ভাল করেছিল। তারপর শরিফ নামে একজনকে ধরে জানানো হলো সে নাকি আক্রমনের মাস্টারমাইন্ড ছিল, এবং যথারীতি তাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে মেরে ফেলা হলো। এখন একটা লোকদেখানো বিচার হবে চুনোপুঁটিদের শাস্তি দেওয়ার জন্য তাতেও আবার এত মিথ্যা কথা বলতে হচ্ছে! বাবা(অভিজিতের বাবা) পাঁচ বছর বিচারের জন্য অপেক্ষা করে করে চলে গেছেন।
কোন বিচারের আশা করিনা আমি, শুধু এই হাস্যকর মিথ্যার প্রতিবাদটুকু জানিয়ে গেলাম এখানে।

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ