আসুন, সকল দীনতা আর নেতিবাচকতাকে দূরে ঠেলে, আমরা সত্য ও সুন্দরে ইতিবাচক থাকি। সৃষ্টিশীলতা আর সৃজনশীলতার গান গাই।

(মুল লেখাটি চার বছর আগের। এর সাথে আরও কিছুটা সংযুক্ত করে, যারা আগে পড়েছেন বা নতুন করে যারা পড়বেন, তাদের জন্যে। সবার প্রতি ভালোবাসা।)

কবি হেঁটে যান সত্যের আলোকবর্তিকায়
ইতিহাসের রাজপথ ধরে।
সোহাগ সিদ্দিকী।

আশির দশকের প্রথম দিকে কবি তখন বাংলা একাডেমির উপ পরিচালক পদে কর্মরত। রাজপথের মুজিব আদর্শের সৈনিক কবি ছড়াকার প্রিয় আসলাম সানী গেলেন কবি’র কাছে, বললেন ‘হুদা ভাই, দুটো তুখোড় লাইন লিখে দিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে।’ কবি লিখলেন

‘ না-জিব বাঙালির কথা।
নেই তো তাহার জিব,
যে বলেনি জাতির পিতা
মুজিব, শেখ মুজিব।’

কবিতাটি হয়ে উঠলো শ্লোগান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজধানীর রাজপথের দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারা হলো এই অমর বাণী। কবিতাটি ১৯৮৪ সনে ‘যিসাস মুজিব’ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। প্রকাশক ছিলেন কালস্রোত প্রকাশনীর পক্ষে তখনকার মুজিব আদর্শের রাজনীতিবীদ বর্তমানে সরকারের খাদ্য মন্ত্রী জনাব কামরুল ইসলাম এমপি।

কবি সবসময় সত্য আর সুন্দরের পক্ষে। বলছিলাম আমাদের প্রিয় জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার কথা। ষাটের এই প্রিয় কবি প্রায় পাঁচদশক ধরে হাঁটছেন ইতিহাসের সাথে শব্দের আলোকবর্তিকা জ্বেলে। চলুন আর একটু অতীতে যাই। একাত্তরের মার্চ, সারাদেশে আন্দোলনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। পিছিয়ে নেই লেখক শিল্পী সংস্কৃতির মানুষেরাও। কবি সাহিত্যিকরা প্রকাশ করলেন ‘প্রতিরোধ’ নামে ট্যাবলয়েড। ছয় মার্চ প্রকাশিত সেই পত্রিকা ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বজয়ী ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার আগে তারা বিলি করেছেন জনতার মাঝে। চলুন কবি’র জবানিতে শুনি সে কথা।

“প্রতিরোধ
একাত্তরের ছয় মার্চ প্রকাশিত ‘প্রতিরোধ’ (দ্বিতীয় সংখ্যা, ৬ মার্চ, ১৯৭১) পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠা। এখানে দুটি প্রতিবেদন আছে : ‘আপোষের বাণী আগুনে জ্বালিয়ে দাও’। শেষ তিন বাক্যে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাঙলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট ঘোষণা আছে। দ্বিতীয় প্রতিবেদন ‘শেষ যুদ্ধের প্রস্তুতি বাঙলায়’। এর শেষে দাবি আছে ‘পরিষদ বৈঠক বর্জন কর’, ‘বাঙলাদেশ স্বাধীন কর’। ৭ই মার্চ এটি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার ভাষণের সময় প্রচারিত ও বিলি করা হয়। মোট চার পৃষ্ঠার বাকি তিন পৃষ্ঠাও পোস্ট করা হলো। এখানে কবিতা, শ্লোগান, দাবিদাওয়া, লেখক-সভা প্রভৃতির বিবরণ আছে।

দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আছে দুটি কবিতা ও পাঁচটি শ্লোগান। ‘এসো রক্তের ব্যারিকেড গড়ি’ লিখেছেন ‘খানশা’, মূল নাম শাহনূর খান, ‘মানচিত্র’ লিখেছেন ‘টেরোলিয়াস’, মূল নাম খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। শ্লোগান ‘তুলি কলম কাস্তে হাতুড়ি এক করো / শোষণমুক্ত স্বাধীন বাঙলা কায়েম করো।’

তৃতীয় পৃষ্ঠায় আছে তিনটি কবিতা ও দুটি শ্লোগান। প্রথম কবিতা ‘কোনো বাধা মানাবো না’ লিখেছেন ‘সাদকার’, মূল নাম সাযযাদ কাদির; দ্বিতীয় কবিতা ‘তপ্ত শোণিত স্বাধীন পতাকা আঁকে’ লিখেছেন ‘রকনদ’, মূল নাম রফিক নওশাদ; এবং সর্বশেষ কবিতা ‘জীবন এখন জীবনের বিনিময়’ লিখেছেন ‘মুদনূল’, মূল নাম মুহম্মদ নূরুল হুদা। কবিরা গেরিলা কায়দায় ছদ্মনাম নিয়েছিলেন নিজেদের নামের সংক্ষেপায়ন করে।

চতুর্থ পৃষ্ঠায় মূল প্রতিবেদন ‘বাঙলার হাতে স্বাধীন লাটাই ঘোরে’। উপ-শিরোনামগুলো হচ্ছে ‘শত্রুদের চিনুন’, ‘আমাদের কর্তব্য’, ‘লেখকদের সভা’। দ্বিতীয় প্রতিবেদনেও কিছু ঘোষণা আছে। প্রথম ঘোষণা : ‘প্রতিরোধ’ স্বাধীন সার্বভৌম শোষণমুক্ত বাঙলাদেশের লেখক শিল্পীদের মুখপত্র’। শ্লোগান আছে, ‘খুনের বদলা খুন চাই / বাঙলার স্বাধীনতা চাই /আপোষ আপোষ করে যারা / বাঙলা দেশের শত্রু তারা’।

প্রতিবেদন ও শ্লোগানগুলো সম্মিলিতভাবে লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন জনাব আহমদ ছফা, মুহম্মদ নূরুল হুদা, মুনতাসীর মামুন ও রফিক নওশাদ। এই পত্রিকাটি ৫ই ফেব্রুয়ারি রাতে অত্যন্ত সঙ্গোপনে ওয়ারীর ঠাঠারীবাজার-সংলগ্ন ‘পুরবী প্রেস’ (৮৭ বামাচরণ চক্রবর্তী রোড ঢাকা) মুদ্রিত হয়েছিলো। প্রেসের মালিক ছিলেন আজকের সর্বজনশ্রদ্ধেয় জ্ঞানগুরু প্রফেসর আনিসুজ্জামানের ছোটভাই জনাব আখতারুজ্জামান। আসলে এটি ছিল তাঁদের পারিবারিক প্রেস। সারারাত আমি ও রফিক নওশাদ প্রেসেই কাটিয়েছিলাম। একসময়ে পুলিশ প্রেসের ভিতর ঢুকে পড়ে। আমি প্রেসের পুফরিডার ও রফিক কম্পোজিটরের ভূমিকায় অভিনয় করে পার পেয়েছিলাম।

৭ই মার্চ সকাল বেলা এটি আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক সমাবেশে বিলি করেছিলাম। তখন মুনতাসীর মামুন আর খালিকুজ্জামান ইলিয়াসও আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। আমরা অধীর চিত্তে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা শোনার প্রতীক্ষায় ছিলাম। এলো সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত যখন তিনি স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ভাষণের শেষে মাত্র এগারোটি শব্দে উচ্চারণ করলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, / এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’ ‘জয় বাংলা’ তাঁর চূড়ান্ত উচ্চারণ। এর পর আর কোনো ধ্বনি বা শব্দ তিনি উচ্চারণ করেননি।

সেদিন থেকে বাংলাদেশ ও বাঙালি চিরস্বাধীন।”
বঙ্গবন্ধুর সেই উদাত্ত আহবানে উজ্জীবিত বাঙালি তৈরি হলো ঘরে ঘরে। ২৫ মার্চের পর শুরু হলো প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের জীবন আর অগণিত মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এলো স্বাধীনতা। ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশের মাটিতে ফিরে এলেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুরু হলো দেশ গঠনের কাজ। অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলা একাডেমিতেও স্বাধীন দেশের স্বাধীন ভাষায় শুরু হলো ইতিহাস ঐতিহ্য সাহিত্য সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজ। ডক্টর মাযহারুল ইসলামের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ গ্রন্থের অনুবাদ নিয়ে অনুবাদ প্রকল্পে সহকারী পরিচালক হয়ে যোগ দিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সেই থেকে টানা দুই যুগেরও বেশি উপ পরিচালক, পরিচালক হয়ে কর্মরত ছিলেন বাংলা একাডেমিতে। একাডেমির বিভিন্ন পত্রিকা, জার্নালের সম্পাদানার কাজ করেছেন দক্ষতার সাথে। একাডেমিতে তার সেরা কাজ তরুণ লেখক প্রকল্পের ধারণা, রূপরেখা ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন এবং বাংলা একাডেমির আওতায় এই প্রকল্পের প্রথম পরিচালক হিসাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন। সহযাত্রী হিসাবে পেয়েছিলেন কবি রফিক আজাদ, কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনর মতো গুণীজনদের।

মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সপক্ষে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা’র কলম সক্রিয় ছিল সবসময়। তাকে ঘিরে ৭০ ও ৮০ দশকের তুখোড় কবিরা কবিতা বিষয়ক ও সাংগঠনিক নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, কবি কামাল চৌধুরী, কবি মোহাম্মদ সাদিক, কবি আসাদ মান্নান, কথাসাহিত্যিক ইসহাক খান, কবি জাফর ওয়াজেদ, কবি নিশাত খান, কবি ফারুক মাহমুদ অন্যতম। এই সময় উল্লেখিত তরুণ তুর্কিদের এবং কবি জাকারিয়া চৌধুরী, কথাশিল্পী রাহাত খান, কবি সিকদার আমিনুল হক সহ বাংলাদেশর অগ্রজ ও সমসাময়িক অধিকাংশ লেখকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব। দীর্ঘদিন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব এগিয়ে চলছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে। যা এখনো কবি সাহিত্যিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন। এই ক্লাব সাহিত্য বিষয়ক নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। বছরজুড়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ক্লাব আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠানমালা। কবিতা সহ সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা আয়োজন করে এই ক্লাব। ২০০২ সনে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব ৩১ ডিসেম্বরকে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক লেখক দিবস হিসাবে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে প্রতি বছর এই দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হচ্ছে। আয়োজিত হচ্ছে কবিতার শান্তিযাত্রা।

রাইটার্স ক্লাবই প্রথম সাপ্তাহিক সাহিত্যআড্ডার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে; এবং বর্তমানে প্রতি শনিবার বাংলা সাহিত্যের সকল লেখকের স্মরণ বরণে- সাহিত্যআড্ডা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত সাত বছর এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমার মতো অনেকই নিজেকে ঋদ্ধ করেছে।

মুজিববর্ষে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার নেতৃত্বে ও সভাপতিত্বে ‘সয়ং ভাস্কর্য তুমি স্বয়ং ভাস্কর’ শিরোনামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রন্থত্রয় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ‘কারাগারের রোজনামচা’ ‘আমার দেখা নয়া চীন’ পাঠ, পাঠপ্রতিক্রিয়া ও সম্পূরক আলোচনার আয়োজন করে, ফেইসবুক অনলাইন লাইভ-এ প্রায় ৮৫টি পর্বে, প্রায় তিনমাস ধরে।

৭০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ৮০-র প্রথম দিকেই প্রকাশিত কবি’র কবিতাগ্রন্থত্রয় ‘শোভাযাত্রা দ্রাবিড়ার প্রতি’, অগ্নিময়ী হে মৃন্ময়ী’ ও ‘আমরা তামাটে জাতি’ পাঠক সমাদৃত হয় এবং কবির গুণমুগ্ধরা কবিকে ‘জাতিসত্তার কবি’ হিসাবে অভিষিক্ত করেন। পরবর্তীতে ‘ যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’ ‘হাজার নদীর দেশ’ সহ অনান্য কবিতাগ্রন্থে, মাতৃভূমির মানুষ, প্রকৃতি ও তার হাজার ইতিহাস ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি তুলে ধরেছেন কবিতার নান্দনিকতায়। তাই জাতিসত্তার কবি অভিধায় কবি এখন সর্বমহলে সমাদৃত।

১৯৭৫-এর পর দীর্ঘ সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসন বিরুদ্ধে মুক্তবুদ্ধির সকল লেখক শিল্পীর সাথে কবি যুক্ত ছিলেন সবসময়। যদিও তিনি তখন বাংলা একাডেমির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত, তবুও সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে লেখক শিল্পীদের সাথে একাত্ম ছিলেন। স্বৈরাচারী বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলের আন্দোলন যখন বেগবান হয়, তখন তিনিও এদেশের লেখক সাহিত্যিক শিল্পী সমাজ এই আন্দোলনে সাধারণ জনতার সাথে রাস্তায় নেমে আসে। তখনই গঠিত হয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা শুরু থেকে আজও আছেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সাথে। বর্তমানে তিনি সভাপতিমন্ডলীর সদস্য।

১৯৯৬ সনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। কবিকে নজরুল ইন্সটিটিউট নির্বাহী পরিচালক-এর দায়িত্ব দেয়া হয়। পাঁচ বছর দক্ষতার সাথে সে দায়িত্ব তিনি পালন করেন। সাহিত্যের সকল শাখায় নজরুলের রচনাবলী শুদ্ধরূপে সম্পাদনা, নজরুল ইন্সটিটিউট পত্রিকা সম্পাদনা সহ জাতীয় পর্যায়ে নজরুলের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী আওয়ামীলীগ সরকার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা’র কবিতা তথা সার্বিক সাহিত্যে মূল্যায়ন করেন এবং রাষ্টীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘একুশে পদক’এ ভূষিত করেন।

এছাড়াও কবি দেশ, বিদেশে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
এই লেখার প্রথমেই উল্লেখ করেছি, ১৯৮৪ সনে কবি’র ‘যিসাস মুজিব’ গ্রন্থটি। এরপরও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন কবি। তার পরবর্তী গ্রন্থসমূহে এগুলো প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি’র আরও চারটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৯৬ সনে প্রকাশিত হয় আগামী প্রকাশনী থেকে ‘মুজিব বাড়ি’। ২০১৫তে ৭১ প্রকাশনী থেকে ‘জাতি পিতা ও অন্যান্য কবিতা’ ( এই কবিতাগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় আরও কিছু কবিতা যুক্ত হয়ে) পাঞ্জেরী পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘স্বাধীন জাতির স্বাধীন পিতা’ ও মুজিববর্ষে অনন্য সংযোজন ‘অনন্ত মুজিব জন্ম’।

বছরজুড়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে, যেমন :
১০ জানুয়ারি, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ, ২৬ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ১৬ ডিসেম্বরে তার লেখা কবিতা, প্রবন্ধ জাতীয় দৈনিকের ক্রোড়পত্রে, উপসম্পাদকীয়তে, অনলাইনে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ-ছাড়াও জঙ্গিবাদ সহ দেশের যেকোন সংকট দুর্যোগে কবি’র লেখনী সবসময় নিরলসভাবে চলছে। পত্রিকা বা অনলাইনে খুঁজলে আমরা দেখতে পাবো।

শতাধিক গ্রন্থে প্রণেতা এই কবি সত্তুর বছর বয়সেও লিখে যাচ্ছেন বিরামহীন। তার চেয়েও বড় কথা, সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি নতুন কবি লেখকদের অনুপ্রাণিত ও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন। দেশ বিদেশের সাহিত্যের নানা আয়োজনে ছুটে যাচ্ছেন বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ তথা বাংলা সাহিত্যকে সাথে নিয়ে। তাইতো জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা লিখতে পারেন,

‘যতদূর বাংলাভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সরকার, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা কে দায়িত্ব দিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের। যথাযোগ্য এই দায়িত্বে তিনি বাংলা একাডেমি কে নান্দনিক ভাবে গতিশীল করবেন, আমাদের নিশ্চিত বিশ্বাস।

কবি এক সত্যসন্ধানী আলোকযাত্রী,
সূর্যের মতো দীপ্তমান, পাহাড় সম অনড়!
কোন কিছু দিয়ে তাকে আড়াল করা যায় না।

 

 

  • সোহাগ সিদ্দিকী : কবি, আয়কর পরামর্শক ও দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব