কবিতা ভাবনা ও লুইজালে

কবিতা ভাবনা

কবিতা কী, কেন লিখছি এসব প্রশ্ন আমাকে সজ্ঞানে জড়িয়ে থাকে। এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে বলে দিতে পারিনা কবিতা’কে জানি, এজন্যই লিখছি এমন কথাকলি; কখনো মেজাজ বিগড়িয়ে বলতে পারিনা কবিতা’কে লিখবো না, এসবের আগে বলি নিজেকে- কবিতা কেন লিখবো না…
কবিতা না লিখলে কবিতা’র কী কোনো ক্ষতি হবে, কবিতা কখনো বলেনা কবিতা’কে লিখতে, তাহলে কাকে বলি আমরা কবিতা লিখবো না…!

এটা সম্পূর্ণ অলিখিত রহস্য। অনির্ণীত গুহা, কয়েকটা ফোঁটার অনন্ত পারাপার …

আমি বলি হৃদয়ানুভূতিসম্পন্ন প্রত্যেকে কবি। অর্থাৎ ভেতরটা যখন বলে ‘ক(ই) বি…এই একটা তাড়না আসে মানুষ থেকে, সমাজ থেকে, প্রকৃতি থেকে, বিশ্বাস অথবা অবিশ্বাস থেকে…

সত্যিকার অর্থে সবাই কবি। একজন রিকশাচালকও রিকশা চালাতে চালাতে কী এক সুরে গেয়ে ওঠে আচমকা; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকুক, ধরুন অক্ষরজ্ঞানও নেই, তবুও সে গেয়ে যাওয়া সুরে কথাগুলো আপনাকে থমকিয়ে দিয়ে বাজিকরের অদ্ভুত হাসির ছটা যেন… অক্ষরজ্ঞান নেই বলবেন কোন স্পর্ধায়? লিখতে জানলে কী অক্ষরজ্ঞান শুধু,হৃদয়ে যে লিখে নিয়েছে সে আরো শক্তিশালী, কবিতা’র নিজেরও লেখার অক্ষরজ্ঞান নেই, যা আছে হৃদয়ে লেখা সেসব অক্ষর…

মকসুদে তুমি

পাহাড়ে নিয়তের মোমবাতি জ্বলছে
ঝাড়ের ফাঁকে চোখ গলিয়ে দেখছি
চাঁদ নেমে এসেছে,
নাকের কাছাকাছি শুঁকছি এই-তো
কারো চোখের জলে,
টিমটিমে আলোয় পুড়ে যাচ্ছে-
গলে যাচ্ছে একটু একটু
সিনার বোতাম খোলে
ফের তাকাতেই
দেখি চাঁদ নেই!
চাঁদ নিয়ে কেউ বাড়ি ফিরে গেছে

লুইজালে

বিলের ধারের বটগাছটি আমার মা
বাবা হয়তো লুইজাল নিয়ে
মাছ ধরতে গেছে,
বোনটি প্যাঁকপ্যাঁক করছে
শেওলার হাডিঁতে –
আমি ঝুলছি বটগাছে
পরগাছার ইঁয়ড়ে; …

শ্রাবণী আজও

থাকিও কাদায়,না মাখিও গায়
বলে বলে পিতামহ কাদা ছুঁড়ে
মারতেন আমাকে,
আমি নদীতে ডুব দিয়ে প্যান্ট খুলে
শুশুকের মতো,
শিরশিরানি বাতাসে তীরের বালিতে
সূর্যের দিকে উবু হয়ে
পাখি উড়া দেখি,
শ্রাবণীর ঢেউ তোলা হাসিতে
পাড়ভাঙা বুকে দাঁড়াতেই ও বলল প্রথম,
আমি মুসলমান।
আমার সে কী কান্না,
সে সেদিন থেকে আমার সাথে খেলতো না
এ পাড়ায় আসতো না;
পুজো মন্ডপে ধূপের শরীরে চোখ রাখলে
দেখতাম – সে প্রতি পুজোয় মায়ের
হাতে চিরকুট গুঁজে দেয়;
প্রতি সহবাসের ঘোরে ভাবি,
শ্রাবণী আমাকে আজও অভিশাপ দিচ্ছে।

চিতার গান

আমি তোমার খেলার লাডুম-
ঘুরিয়ে দাও,
অষ্টপ্রহর সূর্যদিঘির মাতাল ঝাঁঝি।
কাঠের বুকে লোহার গুঁতা
নটীবালা ভেঙ্গেচুরে নাগর ডোরে
মেঘসিঁদুর আর উলুধ্বনি।

অট্টহাসির চারণ ভূমে
বেলাশেষে আমায় না হয় মুক্তি দিও-
পুড়িয়ে ফেলে…

কসম

শহর থেকে ফিরলে-
হলদে গেন্দার ঝলমল দুপুর
হাতের মুঠোয় রেখো…
ঝলির ফুটোয় একচোখা
বাদুড়ের মতো- লটকাবো,
দুপুর গড়ালেই-
জিন্দা অলির মাজার হয়ে যাবো…

 

  • মাহমুদ নোমান কবি ও সম্পাদক, দেয়াঙ

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ