উনিশশো একাত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডাক ও অব্যাহতি

ভারতের সৈন্যদের পুর্ব পাকিস্তানে ঢুকে পড়া, উপর্যুপরি বিমান হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর ছিয়ানব্বই হাজার সৈন্য সমেত আত্মসমর্পণ না ঘটলে যেমন বাংলাদেশ নামের দেশের জন্ম হতো না, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখতে হতো বিশ্ববাসীকে।
উনিশশো একাত্তরে বাংলাদেশকে (তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তান) ঘিরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি এবং প্রায়োগিক যাত্রা শুরু হয়ে গিয়েছিল, তা আমাদের স্বাধীনতার আনন্দে এবং নিজেদের জর্জরিত অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে গিয়ে সে আলোচনা রয়ে গেছে আড়ালে, অথবা ইতিহাস এমনই। ভারত বিরোধিতা থেকে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক যেমন পোক্ত ছিল, ঠিক একই কারণে ইঙ্গ-মার্কিন জোটেরও আগ্রহ ছিল পাকিস্তান ভুখণ্ডের প্রতি।
হয়তো ভারত পাকিস্তান বিরোধকে কেন্দ্র করে আমেরিকান জোট দক্ষিণ এশিয়ায় শক্ত ঘাটি করার পরিকল্পনায় এগোচ্ছিল। এছাড়া রাশিয়ার সম্প্রসারণের বিপক্ষেও ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রহ থাকতে পারে। তবে ভারতে যখন এক কোটি পূর্বপাকিস্তানী বাঙালি শরণার্থী হয়ে ঢুকে গেলো, তখন তা ভারতের জন্য দুই ধরণের বিপদ ছিল, ১. তার পাশে রাশিয়া ছাড়া কেউ নেই, ২. পাকিস্তানের পক্ষে চীন, ইউএসএ, বৃটেন, ফ্রান্স, সৌদি আরব সহ তাদের জোটভুক্ত আরও কিছু দেশ। পাকিস্তান বিভক্ত না হলে এই আমেরিকান জোটের খবরদারি চলবে দক্ষিণ এশিয়ায়, আর এক কোটি শরণার্থী ফেরত পাঠানো হবে অনিশ্চিত। সুতরাং পুর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করা ছাড়া ভারতের হাতে এর চেয়ে ভালো কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। উল্লেখ্য মাত্র নয় মাসের মধ্যে ভারত মহাসাগরের অভিমুখে যে যুদ্ধযাত্রা শুরু হয়েছিল ইঙ্গ-মার্কিন জোটের, এবং তার বিপরীতে রাশিয়ার যে প্রস্তুতি ছিল, তা হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। ভারতের সৈন্যদের পুর্ব পাকিস্তানে ঢুকে পড়া, উপর্যুপরি বিমান হামলায় পাকিস্তানি বাহিনীর ছিয়ানব্বই হাজার সৈন্য সমেত আত্মসমর্পণ না ঘটলে যেমন বাংলাদেশ নামের দেশের জন্ম হতো না, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখতে হতো বিশ্ববাসীকে।
আহমেদ শিপলু
সম্পাদত,মগ্নপাঠ

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ