উত্তর আধুনিকতা, উত্তর ঔপনিবেশিকতা এবং ইত্যাদি : সুরঞ্জন দত্ত চৌধুরী

বাঙ্গালা ভাষা, বাঙ্গলা ভাষা, বাঙলা ভাষা এবং বাংলা ভাষা নিয়ে ইদানীং উভয় বাংলায় কিছু কবি লেখক শিক্ষা-চাকুরিজীবী খুবই উদ্যোগী হয়েছেন বাংলা ভাষার জন্মান্তর, রূপান্তর এবং সময়ান্তর উপযোগী করে গড়ে তোলার। এই বিষয়টি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। আমি অতি সাধারণ একজন ক্যাজুয়েল পাঠক হিসাবে খবর পেলে বিদ্বান চিন্তাপ্রবণ উদ্যোগী মানুষজনের লেখা কিছু কিছু পড়া এবং আলোচনা শোনার চেষ্টা করি। এসব শুনে আমি আজকাল চিঠি লেখা তো দূর অস্ত, বাজারের ফর্দ লিখতে গিয়েও মাঝে মাঝে থমকে যাই। থেকে থেকেই মনে হয়, বাংলাটা ঠিক লিখছি তো, বানানগুলি আচমকাই কেমন ভেংচি কেটে ওঠে। নয় নয় করে অনেকটা শীত পার করেছি। বিদ্যারম্ভে একরকম শব্দ বানান, একটু বড় হয়ে লেখায় গুরুচন্ডালীর জন্য নম্বর কাটা, বাড়িতে এসে শুদ্ধ বাংলা না লিখতে পারার জন্য ভর্ৎসনা, গঞ্জনা তৎসহ উপোসী রাখার ভয় দেখানো এসবই সহ্য করতে করতে উচ্চশিক্ষায় কসরৎ করার কাল কেটেছে। এসব নানা কারণেই অবচেতনে বাংলাকে এড়িয়ে চলার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তুলনায়, কয়েকটি বানানের উদ্ভট জটিলতা বাদ দিলে, ইংরেজি আমার কাছে সহজপাচ্য ছিল। উপরন্তু এই ভাষাতে স্থিতিস্থাপকতা অনেকটা উদার থাকায় সঙ্গী পাঠ্য বিষয়গুলি ইংরেজিতে পড়ে ভুলভাল ইংরেজিতে লিখে পরীক্ষকদের উদার দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগে পরীক্ষাগুলি মোটামুটি ভালোভাবেই উৎরে এসেছি। কারণ, ভাসা ভাসা একটা ধারণা ছিলো ইংরেজি ভাষার চরিত্র নিয়ে। ভিক্টোরিয়ান, এলিজাবেথান যুগে ঔপনিবেশিক আমলে ইংরেজিকে বিশ্বময় গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য অনেক সরল করে দেওয়া। এ ছিল তাদের সভ্যতা আর শাসন ব্যবস্থাকে মানিয়ে নেবার সহায়ক এবং তারা সফলও হয়েছে । বিশ্বে লিংক ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে এর তুল্য কেউ নেই এবং এখনো তাই । বাণিজ্য বলুন, বিজ্ঞান বলুন, প্রেমে অপ্রেমে এর জগৎজোড়া দাপট । আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আহা আমার মাতৃভাষাটি যদি এমন সর্বস্পর্শধন্য হতো- গরিমায় সারা বিশ্বে বুক ফুলিয়ে চলতে পারতাম। কিন্তু তা তো হবার নয়। আমার ভাষার নির্দেশে তো আর সুপার কম্পিউটার চলবেনা, মঙ্গলযান ছুটবেনা, চাঁদে গিয়ে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি করবেনা রোবো! কিন্তু এটাওতো ঠিক বাঙালি জাতির চৌহদ্দিতে আমার প্রাণের আবেগ, হৃদয়ের তৃষ্ণা আর মনের আরাম সবকিছুর জন্যই চাই আমার মাতৃভাষা । কিন্তু কোভিড উনিশের মতন ক্রমাগত ধরে বেঁধে এই ভাষার রূপান্তর ঘটালে, আমার মত অনেকেই হয়ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে । এক একটি বিশ্ববিদ্যালয় বানান নবায়নের জন্য নিজের নিজের মত করে তার পদ্ধতি নির্ধারণ করে চলেছেন স্বাতন্ত্র রক্ষার জন্য। তা তারা করুন, ওসব পন্ডিত মানুষদের স্থান, তাঁরা এসব করার হকদার। নানাদিক চিন্তা করে ভাষার উন্নতি সাধনে তাঁরা সতত সচেষ্ট । আমি এ নিয়ে এত চিন্তিত নই, শুধু বেচারা ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করেই মাঝে মাঝে বিষাদ গ্রস্ত হই। কোলকাতায় এক শব্দ এক বানান লিখলে নম্বর পাওয়া যায়, ঢাকার অন্য শব্দ অন্য বানান । স্বাধীন বাংলার অনেকেই ভাবছেন প্রমিত বাংলাভাষা কোলকাতার প্রভাবদোষে দুষ্ট তাই বাংলাকে উদ্ধারের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন । সে তারা করুন, এতে ভীত বা সন্ত্রস্ত হবার কিছু নেই । অধিক ডাকতারের উপস্থিতিতে সহমত না হতে পারলে যেমন চিকিৎসা বিভ্রাটে রোগীর প্রাণ সংসয়, তেমনি ভাষার ক্ষেত্রে তেমনটি হলে বিপর্যয়ের সম্ভাবনাই প্রবল । অনুগ্রহ করে সেদিকটা যদি পন্ডিত ব্যক্তিরা বিবেচনায় রাখেন । অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাংলাদেশ গিয়ে আধুনিক বাংলা কবিতা পড়ার ইচ্ছে হলে আগেই একটি বাংলাদেশের বাংলা অভিধান কিনে সঙ্গে রাখতে হয়, কিংবা অনুরূপভাবে বাংলাদেশ থেকে কেউ এসে শঙ্খ ঘোষের কবিতা পড়তে কলেজ ষ্ট্রিট থেকে সংসদের সরল বাঙ্গলা অভিধান কিনে সঙ্গে রাখতে হয় তবে সেটা হবে ইংরেজি আর আমেরিকান ল্যাঙ্গুয়েজের মত দশা। বরঞ্চ তার থেকেও কঠিন বিষয়।
ভাষার যে স্বাভাব বা চলন তাকে অন্যখাতে বইয়ে দেবার কোন কৃত্রিম প্রয়াস ভাষার দেহ প্রত্যাখ্যান করে। প্রাকৃত, সংস্কৃত, ফার্সী ইত্যাদির স্রোত বেয়ে স্বকীয় বৈশিষ্টে যে বাংলা ক্রমাগত বিবর্তীত হয়ে চলেছে কালোপযোগী চলনে, তাতে ক্ষতির থেকে লাভই হয়েছে বেশি। বাঙালিরা তো লেখ্য আর কথ্য যুগপৎ উভয় ভাষাতেই দক্ষ হয়ে চলেছে অনেককাল। তৎসম শব্দের আর্য রক্তের কথা মনে করে যদি আমরা লিবারাল হবার জন্য মাইকেলের রচনাকে তৎসম দোষে দুষ্ট ভাবতে শিখি, তবে বাংলার নিজস্ব বঙ্গভাষায় রচিত একমাত্র মহাকাব্য রচনার অহঙ্কার থেকেও নিজেকে সরিয়ে রাখতে হয় ।
কল্লোল কালিকলমের যুগেও বিদ্রোহ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথকে উপেক্ষা করার। তারাও শক্তিশালী কবিসাহিত্যিক ছিলেন। আসলে পরে তারা বুঝেছিলেন, উপেক্ষা না করেও স্বকীয়তা থাকলে শক্তিশালী সৃষ্টি জনমানসে আদৃত হয়। আর যতদূর শুনেছি, ভাষাবিদেরা বলেন, বাংলা সংস্কৃতের গর্ভে জন্ম একথা একটি মিথ মাত্র। সংস্কৃতকে কল্পিত ঔপনিবেশিক ভাষা-শাসক প্রচার করাও একপ্রকার বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয় ।
আমার তো এতসব জ্ঞানগর্ভ কথা শুনে আরো বেশি করে ভীতি জন্মায় । আজকাল ভয়ে দূরদর্শনে খবর দেখা বন্ধ করেছি, কেবল ভয় দেখায়। ঠিক সেই রকম ভাষা সংস্কৃতি ক্ষেত্রে উত্তর-আধুনিকতা বনাম উত্তর ঔপনিবেশিকতার দুই উত্তাল তরঙ্গমালায় আন্দোলিত হচ্ছে কাব্যসাহিত্য জগত । এই জিনিসটি কিঞ্চিত বোঝার আশায় ইদানীং দুঃসাহস দেখাচ্ছিলাম। সে সম্পর্কে আমার মত অতি সাধারণ বাঙালির একটু প্রতিক্রিয়া রেখে এই আলোচনর বিরতি টানবো, সাময়িকভাবে । সেটি নিম্ন রূপ;
‘আধুনিক’ বিশেষনটি এমনই দ্যোতনা যে যা এই মুহূর্ত পর্যন্ত বিবর্তীত অবস্থান। আমার মগজে প্রবেশ করেনা, আধুনিকের আবার উত্তর হয় কি করে। আমার মনে হয়েছে এই উত্তর আধুনিকতার জোয়ারের সময় যে আমরা সকল প্রকার বিমূর্ত সৃষ্টির ক্ষেত্রে রেনেসাঁ বা নবজাগরণের যে লক্ষণগুলি সর্বব্যাপী ছিল এবং এখনো ন্যায়, নীতি, যুক্তি, সিদ্ধান্ত, সত্যের রূপ বিশ্বাস অবিশ্বাস ইত্যাদির যে নিরিখগুলি না মানার ডাক। নতুন ধারণার আবাহন। মূল্যবোধগুলিকে প্রশ্ন করা। উত্তর আধুনিকতার প্রবক্তারা বলেন এই সংশয়বাদিতাই হল উত্তরণের চাবিকাঠি। আমি অতশত বুঝিনা, শুধু সিদ্ধান্তবিহীন সংশয় এক মাৎস্যন্যায়ের আবাহনী নয়ত? গবেষণার ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তের আগেও একটা প্রাক্ সিদ্ধান্তের ধারণার লক্ষ্য রাখতে হয়। এই উত্তর আধুনিকতার লক্ষ্যের কোন ছবি থাকলেও তা আমার মত সাধারন মানুষের কাছে এক অজানা ধোঁয়াশা। আর যুক্তি জ্ঞান প্রজ্ঞার সোপান বেয়ে সত্যে পৌঁছানোর যে সন্ধান তাতে মানুষের বোধের জগতে একটা বড় লাফ, এ আমরা সমাজে প্রতিফলিত দেখছি। অচলায়তন থেকে স্থবিরত্ব পরাজিত করে নবজাগরণ মানব সমাজকে সভ্যতার উচ্চতর ধাপে চলমান করেছে । তা প্রমাণিত। কিন্তু উত্তর আধুনিকতা তেমন কোন কন্সেপ্ট হাজির করেছে বলে জানা নেই। আমরা সাধারণ মানুষেরা চমকিত হই এই সকল শব্দ বন্ধে। এখন পর্যন্ত আমার ধারনা, জীবনের পরে আরেকটা জীবন অপ্রমানিত বিধায়, জীবনের পরে মরণই চরম সত্য। তেমনি আধুনিকের পরেও আরেক আধুনিক অবস্থান বা অস্তিত্ব এখনো অধরা , কারণ আধুনিকতা সীমাহীন অনন্তের পরের অবস্থানেও আধুনিক।
উত্তর ঔপনিবেশিক এর সংজ্ঞা কি ধরে নেবো বিদেশী শাসন? উন্নততর সংস্কৃতির পত্তন সংস্কৃতিতে স্রষ্টার হাত ধরে যদি হয়, তাতে ক্ষতির চেয়ে লাভই তো বেশি। প্রশ্নটা হল আমি শামুক হবো না ফুল হয়ে ফুটে উঠবো। বাংলায় আর্যশাসন কবে ছিল? ভাষার চলন ঠিক হয় ভাবের চলন অনুযায়ী। শব্দ আসে শাসক বা প্রভুর হাত ধরে। সে প্রভুত্ব নানা প্রকারের হতে পারে, রাজনৈতিক, ধর্মবিশ্বাস, আর জ্ঞানের প্রভুত্ব। ঈশ্বরকণা শব্দটি জ্ঞানের হাত ধরে এসেছে। ইংরেজী ফার্সী শব্দ এসেছে শাসকের হাত ধরে, সংস্কৃত আরবী এসেছে ধর্মবিশ্বাসের হাত ধরে, ইত্যাদি। তবে ঔপনিবেশিক শুধু শাসন ব্যবস্থা নয়, ধর্মবিশ্বাসের উপনিবেশ বিশ্বজুড়ে। এই প্রবক্তারা কোথা থেকে বেরোতে চাইছেন। মুক্তির পরে কি গোষ্ঠীর ভোকাবুলারীতে আবদ্ধ থাকতে হবে? চট্টগ্রামের ভাষায় কবিতা পাবনার মানুষ বুঝবেন তো? সিলেটের ভাষায় গান সব অর্থ বরিশালের আপামর জনগন বুঝবেন তো? এই প্রসঙ্গে একটু লঘু সত্য ঘটনার কথা উল্লেখ করি :
পুরুলিয়ায় অযোধ্যা পাহাড়ের মাথায় প্রধানত আদিবাসীদের জন্য একটি নিঃশুল্ক বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস আছে। সেটি পরিদর্শনে গিয়ে আমি শিখে এলাম অনেক কিছু, এই ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে। আমি স্বভাব ছাত্র, সমস্ত জায়গাতেই অজানা রয়েছে, এটাই আমার বিশ্বাস। অষ্টম শ্রেণীতে শিক্ষক পড়াচ্ছেন মালভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলে কি কি ফসল উৎপন্ন হয়। তিনি বহুবার পড়ালেন অনেক নামের মধ্যে মিষ্টি কুমড়োর নাম বললেন। পুরুলিয়া বাঁকুড়া অঞ্চলে কুমড়ো আর পোস্ত খুব প্রিয় খাবার। শিক্ষক পড়ানোর পর প্রশ্নোত্তরের পালা শুরু করলেন কেউ আর কুমড়োর নাম করেনা, ভুট্টা জোয়ার আখ গম সব বলে কিন্তু কুমড়ো বলেনা । আমিও ধন্দে পড়ে গেলাম। এই নামটি কেউ কেন মনে রাখতে পারলনা। অথচ শ্রেণীকক্ষের জানালা দিয়েই প্রচুর কুমড়ো দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক মশাইয়ের অনুমতি নিয়ে আমিই একটু পড়ালাম, কুমড়ো শব্দটির বদলে ডিঙ্লা স্থানীয় শব্দ ব্যবহার করলাম। এবার সকলেই উত্তরে প্রথমেই ডিংলা উচ্চারণ করে। আমি শব্দ দুটিকে এবার কোরিলেট করে দিলাম। ছাত্রছাত্রীরা এরপর কুমড়ো উত্তরে বলতে সুরু করল। নদীয়ার মানুষ ডিংলা চেনেনা। কোলকাতার মানুষ চ্যাপা চেনেনা, ময়মনসিংহের মানুষ এয়েচিলুম বোঝেনা, আবার শ্যামবাজারের মানুষ আইবাম বোঝেনা। হ্যাঁ, এখানে উত্তর ঔপনিবেশিক প্রবক্তারা বলছেন বাংলাদেশীয় ‘মান্য’ ভাষা সৃষ্টির তাগিদ অনুভব করছেন। প্রমিত শব্দটি কেতাবী, নবজাগরণের সংস্কৃতির ভাষা উচ্চবর্ণের ভাষা, সাধারণ মানুষের ভাষা না। ফজর, যোহর বাংলাদেশে সবাই বোঝে, সুতরাং কবিতায় চলবে ভোর চলবেনা, কেতাবী । কেতাব আবার পশ্চিবঙ্গের আপামর জনসাধারণ বুঝবেনা। তাহলে উত্তর ঔপনিবেশিক মান্য ভাষা কি এমন করতে হবে বাংলাদেশের বাইরে অজস্র বাঙালি না বুঝলেও চলবে?
যেটিকে তারা কিতাব থেকে কেতাবী বলছেন এই শব্দটিও একটা সময়কাল আগে কোন বঙ্গভাষী বুঝতনা। সহজ মানে হল, প্রচলিত কথ্য ভাষাটি বাংলাদেশের পক্ষে অগ্রহনীয়। আমার ছোট মাথায় যা মনে হয় ভাষাকেও ভাগ করতে হবে। তা হোক, কাল ঠিক করবে কোনটা গ্রাহ্য, কোনটা অগ্রাহ্য হবে। লেখ্য ভাষাটি প্রায় বাতিলের মুখে। প্রমিত যে কথ্য ভাষায় এযাবৎ লেখাজোখা চলছে, তাও তো মান্য বা স্ট্যান্ডার্ড ভাষা । নদীয়ার একটি অঞ্চলের সুমিষ্ট ভাষার চলনকেই তো গ্রহন করা হয়েছে যেমন ব্রিটিশ ইংলিশের স্ট্যান্ডার্ড ভাষার চলন অক্সফোর্ড নামক একটি এলাকার প্রাচীন ভান্ডার ।
আমার কাছে এই শব্দ বন্ধগুলি চমক সৃষ্টি করে। লোক সাহিত্য শব্দের বিরুদ্ধে আমি, কিন্তু আমি মানি কাব্য সাহিত্য বা সংস্কৃতির জরায়ু হল সৃষ্টিকারক ও উৎপাদকদের মস্তিষ্কে । শহুরে মানুষ এলিটিজম আরোপ করে তা কৃত্রিম করে।
  • সুরঞ্জন দত্ত চৌধুরী : কবি ও লেখক

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ