ঈশ্বরের অভিমানী পুত্র : জুয়েল বড়ুয়া

ভাবনা
আমার হারিয়ে যাওয়া কি তোমাদের বুকে শূন্যতা সৃষ্টি করে?
শেষ প্রস্থানেও কি এমন ব্যাথা-বেদনা অনুভব হবে তোমাদের বুকে?
কি মনে হয় তোমাদের,আমি যে নেই এটা তোমরা কেমন করে ভাবতে পারো?
পাতা ঝরার দিন এসে গেছে নিঃসঙ্গ কোকিলের ডাক শোনো গেঁথে দিয়ে যাও বিষাদের কাঁটা।
আমার সাময়িক নির্জন দ্বীপবাসে তোমাদের জমির মানচিত্র কি পাল্টে গেছে বরং তোমরা ভেবে নিয়েছো তোমাদের দখল দারিত্ব অবিন্যাস্ত ভাবে ক্রমশ বেড়ে যাবে।
একছাঁদের নিচে খণ্ডিত ভালোবাসার মানে কী?
তোমাদের বহুগামিতা,ভালোবাসার মন্দরূপ মানুষের স্বভাব,আমার যুগলবন্দী ভাবনার বিছিন্নতাবাদীতার মনকে উসকে দেয়,ইচ্ছে করে নিজের আলাদা আলাদা স্বাধীন ভূখন্ড তৈরি করি।
ও মানুষ মানুষ
আসলে কি আমার শূন্যতা তোমাদের কষ্ট দেয় সত্যিই কি আমাকে ভালোবাসো তুমি?নিজের মতো করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাও?
তোমরা কেমন ভালোবাসো আমায় বাতাসের টানে ছিঁড়ে যাবেনা তো বাঁধন সিনা টান করে হাতে হাত রেখে ঠাঁই দাড়িয়ে থাকবে তো হাঁটু পানি জলে?
সোনাদিয়ার পাড় ভেঙে জল উঠে সাঁই পাহাড়ে আমার নৌকা বাইতে বড়ই মন চায়।
প্রিয় আনোবিচ
সে আজ আসন্ন বিকেলে ফোন করেছে তখনো চোখে ঘুম ঘুম ভাব।নাম্বারটা দেখেই আঁচ করতে পেরেছি প্রিয় বিশাখা।
আমি কৃষ্ণ হতে চাইনি।
আপনি বলেছেন-
ভুলে গিয়েছি কিনা?
এই পৃথিবীতে একমাত্র আপনি  এবং আমার মা ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি আমি যে মিথ্যা বলিনা তা কেউ বিশ্বাস করেনা।তার অন্যতম কারন এখন সত্য মিথ্যার মধ্যকার ফারাক নাই,তফাৎ নাই,অল্প-সল্প কেউ কেউ বিশ্বাস করে।
প্রিয় আনোবিচ তুমিই একমাত্র আমার কাছে জাগতিক চরম সত্য।
না ভুলে যাইনি আপনাকে।
উইপোকা অনেক গুলো বই আর পুরোনো ডায়েরির সাথে আপনার  নাম্বারটাও খেয়ে নষ্ট করে দিয়েছে।
বইগুলো মা অনেকবার তাদের থেকে উদ্ধারের পায়তারা করেছিল কিন্তু আমার কড়া নির্দেশে অভিযান ব্যাহত হয়।
হাতের ছোট মোবাইলটা কারা যেন নিয়ে গেছে আমি ঠিক দ্যাখিনি।
যা হোক প্রিয় বিশাখা
আপনি আমার উষ্ণ শরীর বৃত্তীয় প্রগাঢ় চুম্বনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানবেন।আপনিই একমাত্র নারী যে আমাকে সবকিছু দেবার পরও ফিরিয়ে দিয়েছি।
আপনাকে আশ্বস্ত করেছিলাম আমি হারাবানো।হ্যাঁ ঠিকই তো এখনো আমি তোমার মননে,হৃদয়ে,মস্তিষ্ক গেঁথে রয়েছি।
ভাবতেই আমি এই এখনের পুরুষটা সেই অতীতে ফিরে গেলে প্রচন্ড ভাংচুর হয়।
এটুকু আবদার কি করে সেদিন আর উপেক্ষা করেছিলাম।তবু জলে জল একাকার হয়নি।আমার নৈতিকতাবোধ আমার অর্থনৈতিক পরাজয়ের সুনির্দিষ্ট অন্যতম কারন হলেও তবু আপনি সবকিছু জেনে শুনে আমাকে ভালোবাসেন এটাই আমার কাছে সাতাশে নক্ষত্র তুমি!
একজন লেখকের কাছে কোনো নারীই মৃত নয়।
সে কোনো না কোনোভাবে কবিতায়,গল্পে,উপন্যাসে,স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।
প্রিয় রাজিব মীর বেঁচে থাকলে পর পর বইয়ের মলাট বের হতো তিঁনি নেই,সুমনা খানও একা কি করে দীর্ঘ রাত কাঁটে আমাদের!?
আপনি আমাকে কেন ভুলে যান না?এই প্রশ্নটা শুনে সহাস্যে বলেন।
আগামীবার দেখা হবে।মুঠো ভরে রেখে দাও আমার অক্ষমতা।খোপায় বেঁধে দাও কৃষ্ণচূড়ার লাল রং।
আপনি বিশ্বস্ত কাউকে চাইছেন-
ভ্রষ্টাচারে লিপ্ত নয় ওরকম!?
সব বুঝেন,আমাকে বুঝেন জলে আমার বসবাস জল আমি ছুঁইনা সেটাও জানেন।
ভারতীয় একজন উপন্যাসিকের”ভারত বিচিত্রায়”এমন একটি কাহিনি পড়েছিলাম।
হ্যাঁ কথা দিলাম।
না,আমি বিয়ে করিনি।
প্রিয় আনোবিচ
পৌষের বিজতলার মতো কোনো এক শীতল রাতে আমাকে গ্রহণ করো।ব্যাথাহীন মৃত্য দিবে।
ঘুমের মধ্যে চেতনাকে আলাদা করে নিবে।
প্রিয় আনোবিচ
জন্ম,মৃত্যু,জ্বরা,ব্যাধি আমার ভালোলাগেনা।
যেখানে মৃত্যু নেই অজর অমর সেখানে আমায় নিয়ে চলো।
“দৃষ্টি তুমি হও উতলা
বৃষ্টি তুমি নামো
মহুয়ারও তিলতুলসী পরান নামে ডাকো”
লিলিথের দ্রোহ
তুফাইন আইলে দেখো আকাশটা ক্যামন পরিষ্কার হইয়া উঠে তারপরক্ষণে দেহি আমার ঘর ভাইঙ্গা পড়ে বাতাসে উইড়া যাইতে চায় চুল।
দেহো শরতের শিশির তোমার চক্ষু হইতে বাহির হইয়া টুস করে ঘাসের ডগায় বসে সূর্যের আলোয় কেমন সোনালী আভা ছড়ায়
আচ্ছা
এমন যাদু কি আর কহনো দেখছো?
আমার ইচ্ছে করে তোমার বুকে কাঁপন ধরাই আগুন জ্বালাই দিতে
তুমি এডামের মতো চিৎ হইয়া শুইয়া পড়ো তোমার উপ্রে উইঠা বিদ্রোহ করুম ঈশ্বরের আজ্ঞা আমি মানিনা।
সবই ত সমান দেহি আমি আসো জলে জল একাকার হয়ে যাক মাটিতে আসন পাইতা দাও চিৎ হইয়া শুইয়া পড়ো তুমি।
তুফাইন আইলে দেখো আকাশটা ক্যামন পরিষ্কার হইয়া উঠে তারপরক্ষণে দেহি আমার ঘর ভাইঙ্গা পড়ে বাতাসে উইড়া যাইতে চায় চুল।
ঈশ্বরের অভিমানী পুত্র
আমার কষ্টরা বাতাসের সঙ্গ পেলে অন্ধকারে ভূতের আলো হয়,কষ্ট আমার গমনে জরায়ু ক্যান্সার জানি মৃত্যে নিশ্চিত তবুও ঈশ্বর কিংবা মানব দন্ডে  ভীত নই।
আমি ধর্ষিত মৃত পুরুষ কেউ আমাকে জাগিয়ে তুললে আমি হবো কাল,ছিন্ন মস্তক,খুনী।
(২)
কিছু মানুষ ভূলের মধ্যেও সুখ খোঁজে পায়,অযত্নে অবহেলায় নিজেকে শেষ করে দিয়ে ঘৃণা আর প্রতিশোধের চরম বর্হীপ্রকাশ ঘটায়।
দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,বছরের পর বছর শরীরে লোহার পেরেক গেঁথে জং ধরায়।
সে নিজেকে মনে করে মূল্যহীন বস্তুর কোন শত্রু নাই,বাজার-ঘাটের মানুষ আর পথ চারীরা নিজেদের স্বার্থে আমাকে ছেঁড়া বস্ত্র জড়িয়ে দিয়েছে অথচ আমার কোন লজ্জা ছিলনা।
এভাবে অগোছালো কথা আর ভূল পথে হাঁটা আমাকে বানিয়েছে লোক মুখে ঈশ্বরের অভিমানী পুত্র।
(৩)
মধ্য রাতে ফেলে দেয়া সিগারেটের অর্ধেকটা হয়ে উঠে নিবিড় সঙ্গম,
তখনো আমি শব্দের চাষ করি আসমানের নীল অন্ধকারে।
আর উঁনারা বিশ টাকার ফেরি করে যৌনতার,কোন এক গলিতে দেয়ালে হেলান দিয়ে।
  • জুয়েল বড়ুয়া : কবি ও লেখক

আরো দেখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

যুক্ত হউন

21,994FansLike
2,943FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ